রাজধানীর মুগদার মান্ডায় পলিথিনে মোড়ানো এক ব্যক্তির সাত টুকরা দেহ ও পরে পূর্ব মানিকনগরে মাথা উদ্ধারের ঘটনায় পরিচয় মিলেছে। নিহত যুবকের নাম মোকাররম মিয়া (২৮)। তিনি গত তিন বছর ধরে সৌদি আরব ছিলেন এবং পরকীয়ার জেরে হত্যাকারীরা তাকে পরিকল্পিতভাবে দেশে ডেকে এনে হত্যার পর মরদেহ আট টুকরা করে ফেলে রাখে বলে র্যাবের প্রাথমিক তদন্তে ও পরিবারের দাবিতে উঠে এসেছে।
সোমবার বিকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে মোকাররমের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর দাফনের জন্য পরিবারের কাছে মরদেহটি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
র্যাব জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই নারীকে আটক করা হয়েছে। পরকীয়ার জেরে তারা এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। আটক ব্যক্তিরা হলেন হেলেনা বেগম ও তার মেয়ে হালিমা।
নিহত মোকাররমের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার তালশহর গ্রামে। তার বাবার নাম সোহরাব মিয়া আর মা সামিনা বেগম। তার স্ত্রী জোনাকি আক্তার এবং দুই ছেলে মুজাহিদ (৪) ও বায়েজিদ (৬) গ্রামের বাড়িতেই থাকেন।
মোকাররমের চাচাতো ভাই মো. রিফাত জানান, সর্বশেষ গত ১৩ মে মোকাররম তার ছেলেদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। এরপর থেকে তার সঙ্গে পরিবার আর যোগাযোগ করতে পারেনি। রোববার রাতে আশুগঞ্জ থানা-পুলিশের মাধ্যমে খবর পেয়ে তারা ঢাকায় এসে মোকাররমের মরদেহ শনাক্ত করেন।
রিফাত আরও জানান, একই গ্রামে এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে মোকাররমের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মোকাররম যেদিন থেকে নিখোঁজ, সেদিন থেকেই ওই প্রবাসীর স্ত্রীর বাড়িতেও তালা ঝুলানো। মোকাররমকে হত্যাকারীরাই পরিকল্পিতভাবে দেশে ডেকে এনেছে, তবে তার দেশে আসার খবরটি পরিবারের কেউই জানতেন না।
এর আগে, রোববার বেলা দেড়টার দিকে মুগদা মান্ডার ‘শাহনাজ ভিলা’র বেজমেন্ট থেকে মোকাররমের সাত টুকরা পচাগলা খণ্ডিত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তবে তখন সেখানে কোনো মাথা পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা ছিল, ছয় থেকে সাত দিন আগে ওই ব্যক্তিকে অন্য কোথাও হত্যার পর মরদেহ টুকরো টুকরো করে পলিথিনে ভরে ওই বাড়ির বেজমেন্টে এনে ফেলা হয়েছে।
পরবর্তীতে ওই দিন রাতেই মুগদার পূর্ব মানিকনগর পাকা রাস্তার মাথায় দুটি বাড়ির মাঝের গলি থেকে কালো পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় নিহত মোকাররমের বিচ্ছিন্ন মাথাটি উদ্ধার করে পুলিশ।


