কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদীতে মাছ ধরার সময় মো. আলমগীর (৩০) নামে এক জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার রাতে নাফ নদীর হোয়াইক্যং অংশে এ ঘটনা ঘটে।
আহত জেলে মো. আলমগীর টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বালুখালী গ্রামের মৃত ছৈয়দ বলির ছেলে। তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আহত জেলের বড় ভাই সরওয়ার আলম জানান, বৃহস্পতিবার মাগরিবের পর মো. আলমগীর ও আরেক জেলে মো. আকবর নাফ নদীর হোয়াইক্যং এলাকার বিলাইচ্ছর দ্বীপ সংলগ্ন এলাকায় মাছ ধরতে যান। নৌকায় অবস্থান করে নদীতে জাল ফেলছিলেন তারা। এ সময় হঠাৎ কয়েক রাউন্ড গুলির বিকট শব্দ শোনা যায়। একপর্যায়ে আলমগীর নৌকার ভেতরে লুটিয়ে পড়েন।
পরে দেখা যায়, তার বাম হাত থেকে রক্ত ঝরছে এবং একটি গুলি বাম হাত ভেদ করে বের হয়ে গেছে। সঙ্গে থাকা অন্যজেলেদের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, আহত অবস্থায় প্রথমে আলমগীরকে উখিয়া কুতুপালং এমএমএস হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের রাখাইন সীমান্ত এলাকায় মাঝেমধ্যে গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। আজও কয়েক রাউন্ড গুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে।’
বিজিবি উখিয়া ৬৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘নাফ নদীতে এক জেলে গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। ঘটনার পরপরই সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে নাফ নদীতে জেলেদের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কিছু জেলে সেখানে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় জেলেদের সচেতনতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
এর আগে গত ২৭ ডিসেম্বর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের জেরে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ এবং বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকায় একাধিকবার বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়।


