ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত। বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
গত রোববার থেকে এ মামলায় তিনি তিন দিনের রিমান্ডে ছিলেন। ওইদিন তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো.মনজুরুল ইসলাম এ আদেশ দেন। রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গত বুধবার তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার উপ-পরিদর্শক কাজী ইকবাল হোসেন আসামিকে আদালতে হাজির করে তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। তবে আদালত রিমান্ড শুনানির জন্য পরেরদিন রোববার দিন ধার্য করেন।
বুধবার আদালতে রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন জামিনের বিরোধিতা করেন। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিন চেয়ে শুনানি করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামি সুদীপ চক্রবর্তীর সাথে ভুক্তভোগী মিমোর সম্পর্ক ছিল। ঘটনার আগে গত মাসের ২৬ তারিখ মিমোর সাথে ভিডিও কলে কথা হয়। সেখান থেকেই মিমো আত্মহত্যার প্ররোচনা পান। মিমো ছিলেন ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। পরিবারের সঙ্গে বাড্ডার বাসায় থাকতেন তিনি। ২৬ তারিখ সকালে নিজের ঘর থেকে ওই শিক্ষার্থীকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। তার কক্ষ থেকে একটি চিরকুট পাওয়া যায়। সেখানে লেখা ছিল, ‘সুদীপ স্যারকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে। হানি আর সুদীপ স্যার ভালো থাকো। স্যারের দেওয়া গিফটগুলো ফেরত দেওয়া।’ ঘটনার পরে ওইদিন দুপুরের দিকে শিক্ষার্থীর বাবা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলা দায়েরের পর সুদীপকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়। তার পক্ষের আইনজীবী জামিন চেয়ে আবেদন করেছিলেন। আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।


