সাবেক সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২১ জুলাই দিন ধার্য করা হয়েছে।
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেয়। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন।
তিনি ট্রাইব্যুনালে জানান, মাসুদ উদ্দিনকে একদিন জিজ্ঞাসাবাদ করেছে তদন্ত সংস্থা। এ মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আমরা সময় চাই। পরে আগামী ২১ জুলাই দিন ধার্য করে আদালত।
এ বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘একটি মামলায় মাসুদকে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট চেয়েছিলাম। গত ৭ মে তাকে গ্রেপ্তারসহ সেফ হোমে একদিনের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয়েছিল।
শনিবার তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি বেশ কিছু তথ্য দিয়েছেন। আমরা সেসব যাচাই-বাছাই করছি। প্রয়োজনবোধে আরও দুইদিন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সুযোগ রয়েছে। তাকে আবারও জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হতে পারে।
এক-এগারোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আমিনুল ইসলাম বলেন, এক-এগারোর সরকারের সময় মাসুদ উদ্দিন বা আরও কয়েকজনকে ‘ডিফ্যাক্টো গভর্নমেন্ট’ (কার্যত সরকার) বলা হতো। পুরো সরকারটাই তারা চালাতেন। এ কারণে সে সময়ে যেসব অমানবিক ঘটনা ঘটেছে, মানবতাবিরোধী যেসব অপরাধের ঘটনা ঘটেছে, এগুলোর নেপথ্যে মূল মহানায়ক ছিলেন মাসুদ উদ্দিন। এজন্য আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। যা তথ্য পেয়েছি, আরও পাওয়া যাবে বলে মনে করছি।
তিনি আরও বলেন, এক-এগারোসহ শেখ হাসিনার অনেক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। জুলাই-আগস্ট আন্দোলন দমনেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তে এসব উঠে আসছে। প্রতিবেদন পেলে সব ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত বলা যাবে। এ ছাড়া যেসব মানবতাবিরোধী অপরাধে তার সম্পৃক্ততা থাকবে, সেখানেই আমরা তাকে আসামি করবো।
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে ২৩ মার্চ রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় মাসুদ উদ্দিন সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের প্রধান (জিওসি) ছিলেন। একই বছর তিনি মেজর জেনারেল থেকে পদোন্নতি পেয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল হন।
বাংলাদেশের এ রাজনৈতিক সংকটে মাসুদ উদ্দিনকে অন্যতম একজন সংগঠক হিসেবে বিভিন্ন মাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। জাতীয় পার্টির মনোনয়নে তিনি ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে একই আসন থেকে সদস্য নির্বাচিত হন।


