ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার দ্বিতীয় দফা শুরু করতে নির্ধারিত দুই মার্কিন দূতের পাকিস্তান সফর বাতিল করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের ওই প্রতিনিধিরা শনিবার মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছানোর কথা থাকলেও পড়ে তা বাতিল করা হয়।
আর মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন সিদ্ধান্তকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সমাধান ও মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য নতুন ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে শনিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইসলামাবাদ সফর শেষে পাকিস্তানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেই আবার তেহরানে ফিরে যান। পাকিস্তানের সঙ্গে বৈঠকেও শান্তি আলোচনার বিষয়ে কোনো অগ্রগতির ইঙ্গিত মেলেনি।
এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও লেবাননের সশস্ত্রগোষ্ঠী হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে ‘জোরালোভাবে’ হামলার নির্দেশ দেন।
ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের ট্রাম্প জানান, ইসলামাবাদে প্রস্তাবিত বৈঠকে অতিরিক্ত ভ্রমণ ও ব্যয় জড়িত থাকায় এবং ইরানের সবশেষ শান্তি প্রস্তাব তার কাছে যথেষ্ট গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় তিনি বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনারের ইসলামাবাদ সফর বাতিল করেছেন।
শনিবার ওয়াশিংটনে ফেরার পথে ট্রাম্প বলেন, ‘সফর বাতিলের পর ইরান তাদের প্রস্তাব কিছুটা উন্নত করেছে, তবে এটি “যথেষ্ট” নয়।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ইরানের নেতৃত্বের মধ্যে ‘তীব্র অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও বিভ্রান্তি’ রয়েছে।
‘কে দায়িত্বে আছে, তা কেউই জানে না, এমনকি তারা নিজেরাও না। আমাদের হাতে সব কার্ড, তাদের হাতে কিছুই নেই। যদি তারা কথা বলতে চায়, তাহলে আমাদের শুধু ফোন করলেই হবে। আমরা প্রস্তুত’, যোগ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এর আগে ইসলামাবাদ সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সমঝোতার লক্ষণ ছাড়াই পাকিস্তান ত্যাগ করেন আব্বাস আরাগচি।
তিনি এই সফরকে ‘বেশ ফলপ্রসূ’ বলে উল্লেখ করলেও, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান টেলিফোনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে জানান, হুমকি বা অবরোধের মধ্যে তেহরান কোনো ‘চাপিয়ে দেওয়া আলোচনায়’ অংশ নেবে না।
পেজেশকিয়ান বলেন, ‘সমস্যা সমাধানের ভিত্তি তৈরি করতে যুক্তরাষ্ট্রকে আগে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধসহ “কার্যকর বাধা”গুলো সরাতে হবে।’
আরাগচি তার অফিসিয়াল টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, ‘যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের সম্পূর্ণ সমাপ্তি নিয়ে সবশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে আমাদের দেশের নীতিগত অবস্থান ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের “চরমপন্থী দাবি” কোনোভাবেই মেনে নেবে না।’
সূত্র: রয়টার্স


