সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় মনোসামস্যিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ, আধুনিক কারিকুলাম প্রণয়ন এবং সমাজসেবা কর্মকর্তা নিয়োগে সমাজকর্মের ডিগ্রিধারীদের দক্ষতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
তিনি বলেন, সামাজিক সমস্যা দূরীকরণে কেবল আইনি প্রয়োগ নয়, বরং মানুষের মানসিকতা ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের ওপর দিতে হবে।
রোববার বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সিনেট ভবনের অ্যালামনাই ফ্লোরে এক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। প্রতিপাদ্য নিয়ে এই সেমিনারের আয়োজন করে ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (সিএসডব্লিউএবি)।
বাল্যবিয়ে প্রতিরোধসহ বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় ক্লিনিক্যাল সমাজকর্মীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় মনোসামস্যিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ, আধুনিক কারিকুলাম প্রণয়ন এবং সমাজসেবা কর্মকর্তা নিয়োগে সমাজকর্মের ডিগ্রিধারীদের দক্ষতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে জৈবিক, মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক উপাদানগুলো একসূত্রে গাঁথা। তাই একটি সমন্বিত বা ‘বায়ো-সাইকো-সোশ্যাল’ মডেল প্রয়োগে স্বাস্থ্য, সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যৌথ পদক্ষেপ প্রয়োজন।
ঢাবি উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম মানসিক সুস্থতাকে সার্বিক সুস্থতার অংশ উল্লেখ করে সমাজকর্মীদের প্রশিক্ষণ, মর্যাদা ও গবেষণার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী সমাজসেবা কর্মকর্তা পদে সমাজকর্মের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং পৃথক ‘বিসিএস সমাজসেবা ক্যাডার’ চালুর দাবি জানান।
এ ছাড়া জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক সাইফুর নাহার মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, মনোবিজ্ঞানী ও সমাজকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সিএসডব্লিউএবি-এর সভাপতি ও রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য তাহমিনা আখতার। তিনি সমাজকর্ম পেশার ইতিবাচক বিকাশ ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে দুটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানান। দাবিগুলো হলো- ২০১৯ পূর্ববর্তী নিয়মে সমাজসেবা ও সহকারী সমাজসেবা অফিসার পদে সমাজকর্ম/সমাজকল্যাণ স্নাতকদের অগ্রাধিকারমূলক নিয়োগ ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা।
হাসপাতাল, কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র ও মানসিক স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কারদের জন্য নতুন পদ সৃষ্টি ও উপযুক্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও ঢাবির সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ শাহীন খান মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় প্রতিটি মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দেওয়ার এবং একে মানবিক ও সহজলভ্য করার আহ্বান জানান।
সেমিনারে শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক ও মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীরা অংশ নেন। বক্তারা কুসংস্কার দূর করে একটি সুসংহত ও জনবান্ধব মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


