খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে সতর্কতার লেবেল বাধ্যতামূলক করার দাবি

খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে সতর্কতার লেবেল বাধ্যতামূলক করার দাবি
Advertisement
Advertisement

দেশে অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটযুক্ত অতি-প্রক্রিয়াজাত প্যাকেটজাত খাবারের ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এতে খাদ্যাভ্যাসজনিত অসংক্রামক রোগের (এনসিডি) ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় খাবারের প্যাকেটের সামনের অংশে বাধ্যতামূলক সতর্কতামূলক লেবেল (এফওপিএল) চালুর দাবি জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

একই সঙ্গে তারা ‘নিরাপদ খাদ্য (প্যাকেটজাত খাদ্যের লেবেলিং) প্রবিধানমালা, ২০২৬’ দ্রুত চূড়ান্ত করার আহ্বান জানান।

বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার প্রজ্ঞা ও গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের (জিএইচএআই) যৌথ আয়োজনে এক ওয়েবিনারে তারা এ আহ্বান জানান। বিশ্ব খাদ্য দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘আজ উদ্ভাবন, আগামীর পুষ্টি’।

প্রজ্ঞার প্রোগ্রাম কর্মকর্তা শবনম মোস্তফার মূল প্রবন্ধে জানানো হয়, দেশের ৯৭ শতাংশ মানুষ সপ্তাহে অন্তত একবার অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটযুক্ত খাবার গ্রহণ করেন। সব বয়সে এসব খাবারের ব্যবহার বাড়লেও প্যাকেটের পেছনের জটিল পুষ্টিতথ্য সাধারণ ভোক্তার পক্ষে বোঝা কঠিন। এ ক্ষেত্রে প্যাকেটের সামনের স্পষ্ট সতর্কতামূলক লেবেল দ্রুত স্বাস্থ্যঝুঁকির ধারণা দিতে পারে।

ওয়েবিনারে বলা হয়, বিএফএসএ প্রণীত খসড়া প্রবিধানমালাটি খাদ্য মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। তবে দেশি-বিদেশি খাদ্যশিল্পের পক্ষগুলো বাধ্যতামূলক ব্যবস্থার বদলে স্বেচ্ছামূলক লেবেলিং, সময়সীমা বাড়ানো, ছোট প্যাকেটে ছাড় এবং অস্পষ্ট নকশা ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়ে প্রবিধানমালাটি অনুমোদনে বাধা সৃষ্টি করছে।

আরও পড়ুন

এর জবাবে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব জানান, খসড়াটি খাদ্য মন্ত্রণালয়ে রয়েছে এবং ডব্লিউটিও’র বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে, শিগগিরই এটি গেজেট আকারে প্রকাশ পাবে।

রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মোহাম্মদ মুশতাক হোসেন বলেন, দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশের জন্য দায়ী অসংক্রামক রোগ। আর এই অসংক্রামক রোগের প্রধান কারণ অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, যা মোকাবিলায় এফওপিএল জরুরি।

জিএইচএআই-এর বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস জানান, এফওপিএল বাস্তবায়ন হলে স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় কমার পাশাপাশি এসডিজি’তে বর্ণিত এবিষয়ের লক্ষ্য অর্জন ত্বরান্বিত হবে।

ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের সহযোগী বিজ্ঞানী আবু আহমেদ শামীম এফওপিএল’কে সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে উল্লেখ করেন।

প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়েরের সভাপতিত্বে ও সমন্বয়ক মাশিয়াত আবেদিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ওয়েবিনারে ডব্লিউএইচও-র সামিনা ইসরাত, ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিসের আমিনুল ইসলাম সুজনসহ সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad