মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফাঁসির রায় দিয়েছে আদালত।
সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই বিচারক হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
তার বিরুদ্ধে তোলা পাঁচটি অভিযোগের মধ্যে দুইটিতে তার বিরুদ্ধে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়। বাকি একটিতে দেওয়া হয় আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ। রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেছে, শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির অপরাধ প্রমাণিত।
গণ-অভ্যুত্থানের সময় হত্যাকাণ্ডসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় করা প্রথম মামলা এটি যার রায় ঘোষণা করা হলো।
সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রায় ঘোষণা কার্যক্রম শুরু হয়। ৪৫৩ পৃষ্ঠার এই রায়ে মোট ছয়টি অংশ রয়েছে।
জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় গত ১০ জুলাই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও আইজিপি আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
একপর্যায়ে দোষ স্বীকার করে ঘটনার সত্যতা উদঘাটনে রাজসাক্ষী হন সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।

এ মামলায় তিন আসামির মধ্যে একমাত্র মামুনই কারাগারে আটক আছেন। গণআন্দোলনের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বাকি দুজন পালিয়ে যাওয়ায় তাদেরকে পলাতক দেখিয়ে এ মামলার কার্যক্রম শেষ হয়েছে।
গত ১২ মে তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে জমা পড়ে এবং ১ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়। ১০ জুলাই পাঁচটি অভিযোগ গঠন করা হয়, যার মধ্যে ছিল সংবাদ সম্মেলনে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া এবং রংপুর, ঢাকা ও আশুলিয়ায় একাধিক হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততা।


