কক্সবাজারের একটি মহিলা মাদ্রাসায় এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে দারোয়ান মহিউদ্দিন ওরফে মহদ্দিনকে (৪৫) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজারের শিশু সহিংসতা অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ছলিমুল মোস্তফা বুধবার এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, মঙ্গলবার বিকালে বিচারক রবিউল আলম আসামি মহদ্দিনকে দোষী সাব্যস্ত করে এই রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত মহদ্দিন কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল মলমচরের সাকের হোসেন ও নুরজাহানের ছেলে। তিনি মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের পানিরছড়া কালামিয়াকাটা এলাকায় বাস করতেন এবং কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দারোয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
ধর্ষণের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর সরকারি বিধি মোতাবেক তিনি সাময়িক বরখাস্ত রয়েছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ঈদগাঁওয় এলাকার এক নারী তার ১০ বছর বয়সী এতিম নাতনিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ২০২১ সালের ২২ মার্চ কক্সবাজার সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০ সংশোধিত ২০০৩ এর ৯(১) ধারায় শিশু সহিংসতা মামলা করেছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষের পিপি অ্যাডভোকেট ছলিমুল মোস্তফা জানান, শিশুটির দুই বছর বয়সে তার মাকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়া হয়। এরপর তাকে অভাবের কারণে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদরাসার এতিখানায় দেওয়া হয়। সেখানে ২০২১ সালের ১৬ মার্চ সকালে নাস্তার প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে নিজের রুমে নিয়ে যৌন নিপীড়ন চালান দারোয়ান মহিউদ্দিন।
এতে শিশুটি অতিরক্ত রক্তক্ষরণে অসুস্থ হয়ে পড়লে এতিমখানার দায়িত্বে থাকা আমির হুজুরের স্ত্রীকে জানান। তবে বিষয়টি তখনো শিশুর অভিভাবককে জানানো হয়নি।
চারদিন পর ভুক্তভোগী শিশুর অভিভাবক মাদরাসায় গেলে শিশুটি নিজেই তাকে বিষয়টি জানায়। এ সময় তিনি শিশুটিকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চাইলে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ তাতে বাধা দেয়। ওই নারী ইউপি চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানালে তার পরামর্শে ২২ মার্চ কক্সবাজার সদর থানায় মামলা করা হয়। ওইদিনই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পিপি ছলিমুল মোস্তফার দেওয়া তথ্যমতে, মামলার ছয় মাসের মাথায় অভিযোগপত্র দাখিল হয়। ২০২২ সালের ১২ সেপ্টেম্বর মামলায় অভিযোগ গঠন এবং ধারাবাহিকভাবে সাক্ষীদের সাক্ষ্য শেষে গত মঙ্গলবার রায় ঘোষণা করেন বিচারক। এতে অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাস সশ্রম কারাদণ্ড ঘোষণা করা হয়।
এদিকে কারাগারে থাকাকালীন জামিনে বেরিয়ে আসামি মহদ্দিন পলাতক থাকায় রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। তাকে ফের গ্রেপ্তারের পর সাজাভোগ গণনা করা হবে বলেও জানান বিচারক।
এই রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী হরি সাধন পাল বলেন, ‘আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব।’
কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ আমান উল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়ে মামলা হওয়ার পর সরকারি বিধি মোতাবেক দারোয়ান মহিউদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এখন সাজার রায় যথাযথভাবে পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’


