ফরিদপুরে মাদ্রাসার আবাসিক এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে মাদ্রাসার পরিচালক মো. আশরাফ আলীকে (৪৬) ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে আদালত।
একই সঙ্গে জরিমানার এই টাকা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে আদায়পূর্বক ভুক্তভোগীর পরিবারকে দেওয়ার জন্য ফরিদপুরের জেলা প্রশাসককে (ডিসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে অনুপস্থিত (পলাতক) ছিলেন।
আশরাফ আলী ফরিদপুর শহরের দক্ষিণ গোয়ালচামট মহল্লায় অবস্থিত ‘রওজাতুন-নেছা মহিলা মাদ্রাসা’র পরিচালক এবং ওই মহল্লারই বাসিন্দা। তিনি ওই মাদ্রাসার একটি কক্ষে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরী ওই মাদ্রাসার হেফজখানার আবাসিক ছাত্রী ছিল। ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে মাদ্রাসার হেফজখানার শ্রেণিকক্ষ থেকে নিজের থাকার কক্ষে ওই ছাত্রীকে ডেকে নেন পরিচালক আশরাফ আলী। ওই দিন আশরাফের স্ত্রী-সন্তান বাসায় ছিলেন না। বাসা ফাঁকা থাকার সুযোগে তিনি ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। পরে ওই ভুক্তভোগী কৌশলে দৌড়ে সেখান থেকে বেরিয়ে যায় এবং বাড়িতে গিয়ে বাবা-মাকে বিষয়টি খুলে বলে।
পরিবারটি প্রথমে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে ঘটনার ১৭ দিন পর, ৯ মে মাদ্রাসা পরিচালককে একমাত্র আসামি করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন ছাত্রীর বাবা। মামলার পর পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তার করলেও পরবর্তীতে তিনি জামিনে মুক্ত হন। এরপর আদালতের যুক্তিতর্ক শুরু হওয়ার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।
মামলাটি তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নূর হোসেন মাদ্রাসা পরিচালককে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আদালত রায় দেন।
আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রায়ের বলেন, ‘আদালত জরিমানার ৭০ হাজার টাকা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে ভুক্তভোগী পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য ফরিদপুরের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি পলাতক আসামির বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।’
এদিকে আদালতের এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী বাদীপক্ষ জানিয়েছে, তারা দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ন্যায়বিচার পেয়েছে।


