মাদরাসা শিক্ষায় বিদ্যমান চরম বৈষম্য দূরীকরণে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। রোববার এক বিবৃতিতে দলটির মহাসচিব ইউনুস আহমদ এই দাবি জানান।
বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, সর্বশেষ ‘শিক্ষা পরিসংখ্যান ২০২৪’-এর তথ্য অনুযায়ী মাদরাসা শিক্ষকদের মধ্যে প্রশিক্ষিত শিক্ষকের হার মাত্র ৯ দশমিক ১৯ শতাংশ, যা গত ১৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
যেখানে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬৬ দশমিক ১০ শতাংশ শিক্ষক প্রশিক্ষিত, সেখানে মাদরাসা শিক্ষকদের এই বিশাল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এক ধরণের চরম বৈষম্য।
তিনি বলেন, বিগত ১৩ বছরেও এই হার সন্তোষজনক ছিল না এবং সর্বোচ্চ হার ছিল ২০২৩ সালে মাত্র ২৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ। এর অর্থ হলো, মাদরাসা শিক্ষকদের একটি বিশাল অংশ সব সময়ই প্রশিক্ষণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত থেকেছেন।
ইউনুস আহমদ সীমিত প্রশিক্ষণ সুবিধার সমালোচনা করে বলেন, বিপুল সংখ্যক শিক্ষককে দক্ষ করার জন্য দেশে মাত্র একটি কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান মোটেও পর্যাপ্ত নয়। যেখানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষকদের জন্য জেলা পর্যায়ে পিটিআই ও অন্যান্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে, সেখানে মাদরাসা শিক্ষকদের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নেই।
এই সমস্যা সমাধানে তিনি দীর্ঘমেয়াদে জেলা পর্যায়ে মাদরাসা শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার এবং তাৎক্ষণিক সমাধান হিসেবে বিদ্যমান পিটিআইগুলোতে মাদরাসা শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দেন।
শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রেও বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরে মহাসচিব বলেন, প্রাথমিক স্তরের সাধারণ শিক্ষার্থীরা যখন মিড-ডে মিল, উপবৃত্তি ও পোশাকসহ বিভিন্ন সুবিধা পাচ্ছে, তখন মাদরাসার শিক্ষার্থীরা এসব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষা খাতের অধিকাংশ উদ্যোগই সাধারণ শিক্ষাকেন্দ্রিক, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক। একই রাষ্ট্রের নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও মাদরাসায় পড়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থীর সঙ্গে এ ধরনের বিমাতাসুলভ আচরণ কোনো সভ্য দেশে কল্পনা করা যায় না।
বিবৃতিতে তিনি আরও মনে করিয়ে দেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল প্রেরণাই ছিল বৈষম্যহীন এক বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা। তাই নাগরিকদের মধ্যে কোনো ধরনের বিভেদ না করে সকল শিক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। মাদরাসা শিক্ষাকে অবহেলা না করে দ্রুত এই বৈষম্য নিরসনে সরকারের প্রতি জোরালো দাবি জানান তিনি।


