বিশ্বে শিক্ষার জন্য যেসব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেল রয়েছে এবং ভবিষ্যতে যেসব মডেল তৈরি হবে, সেগুলো যেন প্রতিটি শিশু তার মাতৃভাষায় ব্যবহার করতে পারে, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
ফ্রান্সের প্যারিসে ইউনেস্কো সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘ডিজিটাল লার্নিং উইক ২০২৬’-এর একটি মন্ত্রী পর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী এ আহ্বান জানান।
জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেস্কোর উদ্যোগে ৮ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে শিক্ষা: ফ্যাক্টস, ফ্রিকশনস, ফ্রন্টিয়ার্স’। এতে বিশ্বের ২৫টি দেশের শিক্ষামন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিসহ উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ ও শিক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছেন।
মঙ্গলবার উদ্বোধনী অধিবেশনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান ইউনেস্কোর মহাপরিচালক খালেদ এল-এনানি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা–সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক প্যানেলের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন জাতিসংঘের ডিজিটাল ও উদীয়মান প্রযুক্তিবিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি জেনারেল ও বিশেষ দূত অমনদীপ সিং গিল।
‘এজ অ্যাপ্রোপ্রিয়েটনেস অ্যান্ড এআই ইন এডুকেশন’ শীর্ষক মন্ত্রী পর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে বাংলাদেশের খসড়া ‘জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নীতিমালা ২০২৬–২০৩০’ সম্পর্কে তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী।
তিনি বলেন, অনিয়ন্ত্রিত জেনারেটিভ প্রযুক্তি শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ শিক্ষকদের জন্য একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ নির্দেশিকা তৈরি করেছে। এটি পাঠ পরিকল্পনা ও শিক্ষাদানে শিক্ষকদের সহায়তা করবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক এআই মডেলগুলো প্রায়ই বাংলাভাষী শিক্ষার্থীদের চাহিদা পূরণ করতে পারে না। তাই ভাষাগত ও ডিজিটাল বিভাজন দূর করতে বাংলা ভাষায় এমন প্রযুক্তি তৈরির চেষ্টা করছে বাংলাদেশ, যা দেশের দক্ষতাভিত্তিক জাতীয় পাঠ্যক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
শিক্ষার জন্য বর্তমানে বিশ্বে থাকা এবং ভবিষ্যতে উদ্ভাবিত এআই মডেলগুলো যেন প্রত্যেক শিশু তার মাতৃভাষায় ব্যবহার করতে পারে, তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন শিক্ষামন্ত্রী। এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শিশুদের তথ্যের সুরক্ষা ও গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন তিনি।
বুধবার ইউনেস্কো সদর দপ্তরে অনুষ্ঠেয় ‘বিয়ন্ড দ্য পাইলট: ইনসাইটস ফ্রম এআই ইন ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টিচিং অ্যাট স্কেল’ এবং ‘টিচার্স অ্যাট দ্য সেন্টার: এজেন্সি, কম্পিটেন্সিজ অ্যান্ড দ্য টিচার-স্টুডেন্ট রিলেশনশিপ’ শীর্ষক দুটি পার্শ্ব অধিবেশনে শিক্ষামন্ত্রীর অংশ নেওয়া ও বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
সম্মেলন চলাকালে ইউনেস্কোতে আসা বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর সাইডলাইন বৈঠক করার কথাও রয়েছে।


