কর্মজীবী নারীদের মাতৃত্বকালীন ছুটি ও সুবিধা তৃতীয় বা পরবর্তী সন্তানের ক্ষেত্রে সীমিত করার বিধান কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।
সোমবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে এই রুল জারি করে।
রিটটি দায়ের ও শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান। তাকে সহযোগিতা করেন তানজিলা রহমান, মো. বাহাউদ্দিন আল ইমরান ও ইফাত হাসান শাম্মি। আবেদনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিবসহ মোট ১২ জনকে রিটের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
মাতৃত্বকালীন ছুটি ও সুবিধা সীমিত করার বিধানসংবলিত বাংলাদেশ শ্রম আইনের ৪৬(১) ও ৪৬(২) ধারা কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তৃতীয় বা পরবর্তী সন্তানের ক্ষেত্রে মাতৃত্বকালীন ছুটি ও সুবিধা সীমিত করার বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস (বিএসআর)-এর ১৯৭(১) ও ১৯৭(১এ) বিধি কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
রিট আবেদনে বলা হয়, মাতৃত্বকালীন ছুটি ও সুবিধা জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থা নয়; বরং এটি মা ও নবজাতকের মৌলিক স্বাস্থ্য, মর্যাদা, সমতা এবং সাংবিধানিক অধিকারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। সেখানে তৃতীয় বা পরবর্তী সন্তানের ক্ষেত্রে কর্মজীবী নারীদের এই অধিকার থেকে বঞ্চিত করা বৈষম্যমূলক এবং সংবিধানপরিপন্থী বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আবেদনে আরও বলা হয়, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মাতৃত্বকালীন সুবিধা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন নীতিমালা কার্যকর থাকায় কর্মজীবী নারীদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে, যা সংবিধানে নিশ্চিত করা সমতা এবং আইনের সমান সুরক্ষার নীতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, বাংলাদেশের সব কর্মজীবী নারীর জন্য বৈষম্যহীন ও সমান মাতৃত্বকালীন অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই রিট দায়ের করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মাতৃত্ব কোনো শাস্তির বিষয় নয়; এটি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক সুরক্ষার বিষয়। তার ভাষ্য, এই মামলার চূড়ান্ত রায় বাংলাদেশের মাতৃত্বকালীন অধিকার, কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গসমতা এবং শ্রম অধিকার বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।


