পাইলটের উড্ডয়নজনিত ত্রুটির কারণেই মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভবনে প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
বুধবার রাজধানী ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
মাইলস্টোন বিমান দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে জানিয়ে প্রেস সচিব বলেন, ‘তদন্তে দেখা গেছে, প্রশিক্ষণ ফ্লাইট চলাকালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় ওই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।’
তদন্ত কমিটির প্রধান ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস. এম. কামরুল হাসান বুধবার প্রতিবেদনটি প্রধান উপদেষ্টার হাতে তুলে দেন।
গত ২১ জুলাই দুপুরে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের হায়দার আলী ভবনের ওপর আছড়ে পড়ে। ভয়াবহ ওই বিমান দুর্ঘটনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ ৩৬ জন নিহত হন।
দুর্ঘটনার পরপরই প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তাদের তদন্তে দেখা যায়, দুর্ঘটনাস্থল মাইলস্টোন স্কুলের ভবনটি রাজউকের বিল্ডিং কোড অনুযায়ী অনুমোদিত ছিল না। ভবনটিতে ন্যূনতম তিনটি সিঁড়ি থাকার কথা থাকলেও সেখানে মাত্র একটি সিঁড়ি ছিল। সেটিও ভবনের মাঝখানে অবস্থিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, তিনটি সিঁড়ি থাকলে হতাহতের সংখ্যা অনেক কম হতে পারত।
কমিটির সদস্যরা বিশেষজ্ঞ ও প্রত্যক্ষদর্শীসহ প্রায় ১৫০ জনের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জানিয়ে শফিকুল আলম বলেন, ‘এসব সাক্ষাৎকার ও প্রমাণের ভিত্তিতে কমিটি দুর্ঘটনা সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ মোট ১৬৮টি তথ্য পায় এবং সে আঙ্গিকে ৩৩টি সুপারিশ জমা দেয়।’
প্রতিবেদনের প্রধান সুপারিশ অনুযায়ী, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিমানবাহিনীর প্রাথমিক প্রশিক্ষণ ভবিষ্যতে ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানী ঢাকার বাইরে অনুষ্ঠিত হবে।
সুপারিশে বরিশাল ও বগুড়ার রানওয়ে সম্প্রসারণের কথাও বলা হয়েছে। সেই নির্দেশনাও বুধবারের বৈঠকে অনুমোদিত হয়। পাশাপাশি নতুন এলাকাগুলোতে রাজউকের বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে অনুসরণের বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


