মাগুরার প্রত্যন্ত অঞ্চলের শৈল্পিক ছোঁয়া এবার পৌঁছে যাচ্ছে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। জেলা শহরের সাধারণ গণ্ডি পেরিয়ে শিল্পী সরজিত অধিকারীর নিপুণ হাতের তৈরি সরস্বতী প্রতিমা এবার পূজিত হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল প্রাঙ্গণে। ২৩ জানুয়ারি বাণী অর্চনা উপলক্ষ্যে ফার্মেসি বিভাগের মণ্ডপে এই প্রতিমাটি স্থাপন করা হয়েছে।
মাগুরা সদর উপজেলার বাটিকাডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা সরজিত অধিকারী দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিমা নির্মাণের কাজ করছেন। নিখুঁত রঙের ব্যবহার, শৈল্পিক নকশা আর প্রতিমার মুখাবয়বে জীবন্ত ভাব ফুটিয়ে তোলার জন্য স্থানীয়ভাবে তার বেশ সুনাম রয়েছে। এবার দেশের প্রখ্যাত ও অভিজ্ঞ শিল্পীদের কাজের পাশে নিজের সৃষ্টিকে তুলে ধরার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত এই শিল্পী।
সরজিতের এই সাফল্যকে তার শিল্পী জীবনের এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই অর্জন সম্পর্কে সরজিত জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো মর্যাদাপূর্ণ স্থানে নিজের তৈরি প্রতিমা স্থান পাওয়া তার জন্য অনেক বড় সম্মানের বিষয়। তিনি এই প্রতিমাটিতে শাস্ত্রীয় রীতির সাথে আধুনিক নান্দনিকতার সমন্বয় ঘটিয়েছেন, যাতে দেবীর জ্ঞান ও করুণাময় রূপটি জীবন্ত হয়ে ওঠে। জগন্নাথ হলের এই সুযোগ পাওয়ার পর থেকে এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও দুর্গাপূজাসহ অন্যান্য উৎসবে প্রতিমা তৈরির প্রস্তাব পাচ্ছেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল ঐতিহাসিকভাবেই সম্প্রীতি ও বড় মাপের সংস্কৃতিচর্চার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছর সেখানে দেশের সেরা শিল্পীদের কাজ প্রদর্শিত হয়। সেই সারিতে মাগুরার একজন জেলা পর্যায়ের শিল্পীর কাজ নির্বাচিত হওয়াকে স্থানীয় সংস্কৃতিসেবীরা বড় স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন। তারা মনে করেন, সরজিতের এই সাফল্য জেলার অন্যান্য সৃজনশীল মানুষদের অনুপ্রাণিত করবে।
জগন্নাথ হলের বিশাল আয়োজনে ৭৩টি মণ্ডপে যখন সরস্বতী পূজা উদযাপিত হচ্ছে, তখন সেখানে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে মাগুরার শিল্পী সরজিতের শৈল্পিক সৃষ্টি। এর মধ্য দিয়ে আবারও প্রমাণিত হলো যে, একাগ্রতা আর সৃজনশীলতা থাকলে গ্রাম বা মফস্বল থেকেও জাতীয় পর্যায়ে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখা সম্ভব।


