ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শাহনেওয়াজ হলের সামনে ভ্রাম্যমাণ দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে সোমবার মধ্যরাতে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
এ সময় উভয়পক্ষের ইট-পাটকেল নিক্ষেপে ওই এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শাহনেওয়াজ হলের সামনে ফুটপাতে ভ্রাম্যমাণ একটি দোকান স্থাপন করতে এসেছিল ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা। তাতে বাধা দিতেই সংঘর্ষের সূত্রপাত। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে পরস্পর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন। কয়েকটি ভ্রাম্যমাণ দোকানও ভাঙচুরও করা হয়।
সংঘর্ষের এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েমসহ ছাত্রনেতারা। তারা ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে নামে এবং উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
নিউমার্কেট জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ঢাকা কলেজের কিছু শিক্ষার্থী সম্ভবত শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের সামনের দোকানগুলো সরিয়ে সেখানে চায়ের দোকান বসানোর চেষ্টা করছিলেন। এ নিয়ে কথা–কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।’
তিনি আরও বলেন, রাতে পর্যাপ্ত পুলিশ না থাকায় অতিরিক্ত ফোর্স ডাকা হয় এবং আড়াইটার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
ঘটনার পর শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন এবং এই ঘটনার প্রতিবাদ জানান। প্রক্টর ও ডাকসু নেতাদের সঙ্গে সোমবার বিস্তারিত আলোচনার আশ্বাস পেয়ে ভোর ৫টার দিকে তারা হলে ফিরে যায়।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় কোনো শিক্ষার্থীর আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনাস্থলে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক ইটের আঘাতে আহত হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সংঘর্ষের সূত্রপাতের কারণ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।


