পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বাইশকুড়া-তেঁতুলতলা সড়কে একটি সংযোগ সেতু নির্মাণে চরম গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। এক বছরের কাজ পাঁচ বছরেও শেষ না হওয়ায় সীমাহীন দুর্ভোগে অন্তত আটটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ। প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এই সেতুটি মাঝপথে থমকে থাকায় কয়েক লাখ মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে স্থবিরতা নেমে এসেছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ৩৭ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটি নির্মাণের দায়িত্ব পায় ‘টিএন অ্যান্ড এএসআই লিমিটেড’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তিন কোটি ৬১ লাখ ৬১ হাজার ৫৮৬ টাকা বরাদ্দের এই কাজ ২০২০ সালের ডিসেম্বরে শুরু হয়ে ২০২১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের চার বছর পার হয়ে গেলেও কাজের কোনো অগ্রগতি নেই। বর্তমানে বাধ্য হয়ে এলাকাবাসীকে বিকল্প পথে ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। এতে অপচয় হচ্ছে সময় ও অর্থ।
সেতুটি না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দা সোলায়মান মাঝি বলেন, “গত কয়েক বছর ধরে আমরা নরক যন্ত্রণার মধ্যে আছি। বাইশকুড়া খালের ওপর এই সেতুটি না হওয়ায় আমাদের এলাকায় কোনো গাড়ি ঢুকতে পারে না। কোনো মানুষ মারা গেলে লাশ বহন বা দাফন-কাফনের কাজেও আমাদের চরম সমস্যায় পড়তে হয়। হাজার হাজার মানুষের এই কষ্ট লাঘবে আমরা কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ চাই।”
সরেজমিনে দেখা গেছে, পারাপারের জন্য যে অস্থায়ী কাঠের সাঁকো তৈরি করা হয়েছে, সেটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এই সাঁকো দিয়ে পার হতে গিয়ে শিশু ও বৃদ্ধসহ অনেকেই দুর্ঘটনার শিকার হয়ে আহত হয়েছেন। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে কাজ শেষ করে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করা হোক।
কাজে দীর্ঘসূত্রতার বিষয়ে জানতে চাইলে মঠবাড়িয়া উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. জিয়ারুল ইসলাম বলেন, “২০২০ সালে কাজ শুরু হলেও কিছু প্রাথমিক জটিলতায় দেরি হয়েছিল। এরপর কাজ শেষ করার জন্য আমরা বারবার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করেছি, কিন্তু তাদের কোনো সাড়া মেলেনি। বর্তমান পরিস্থিতিতে ওই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ আর সম্ভব নয় বলে এখন নতুন করে দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।”
দীর্ঘ পাঁচ বছরের অবহেলা কাটিয়ে দ্রুত নতুন ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজ শেষ হবে—এমনটাই এখন ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীর একমাত্র প্রত্যাশা।


