ফেনীতে নিষেধ অমান্য করে ভোট দেওয়ার কারণে গৃহবধূ বিবি জহুরাকে তালাক দেন তার স্বামী। এ ঘটনায় জহুরা ও তার তিন সন্তানের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার নির্দেশে বিএনপির সমর্থিত সংগঠন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ স্থানীয়ভাবে জহুরার পুনর্বাসন ও আর্থিক সহায়তার কাজ শুরু করেছে।
শনিবার বিকালে ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নে জহুরার শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে সংগঠনটির নেতারা সংসার পরিচালনা, সন্তানদের ভরণপোষণ ও পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন, মোস্তাকিম বিল্লাহ, আবদুল্লাহ আল মেজবাহ, কেন্দ্রীয় নেতা মশিউর রহমান বিপ্লব, ফেনী–১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু এবং পৌর বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন ভূঁঞা।
নেতারা জানান, জহুরার হাতে তাৎক্ষণিক নগদ সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং প্রতি মাসে তার পরিবারের খরচের জন্য অর্থ পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন বসবাসের জন্য ঘর নির্মাণের করা হবে।
স্থানীয়রা জানান, জহুরার স্বামী ইসমাইল হোসেন কাওসার। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি তার স্ত্রীকে ভোটকেন্দ্রে যেতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু প্রথমবারের ভোটার হিসেবে জহুরা সন্তানদের নিয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেন। পরে কাওসার ক্ষিপ্ত হয়ে মৌখিকভাবে তাকে তালাক দেন।
এ ঘটনায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে স্থানীয়রা কাওসারকে আটক করেন। পরে তিনি তালাক প্রত্যাহারের আশ্বাস দিয়ে সটকে পড়েন। কাওসারের মা শরীফা খাতুন বলেন, ‘ছেলে অন্যায় করেছে। সে ঘরে ফিরতে চাইলে জহুরাকে স্ত্রীর মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে হবে।’
জানা গেছে, ২০১৩ সালে মধুয়াবাজার এলাকার নুর আহম্মদের মেয়ে জহুরার সঙ্গে কাওসারের বিয়ে হয়। তাদের তিন সন্তান রয়েছে। জীবিকার তাগিদে জহুরা অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। কাওসার আগে ফেনী রেলগেট এলাকায় বেডিং কারিগর হিসেবে কাজ করতেন। বিএনপি সমর্থিত সংগঠনটির পক্ষ থেকে তার পরিবারকে দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।


