আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গণনায় বেশি সময় লাগবে বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ফলে ফলাফল প্রকাশেও কিছুটা দেরি হবে।
ভোটের বাকি আর ২১ দিন। পোস্টাল ব্যালট আসতে দেরি হবে কিনা, নির্ধারিত দিনে কী পরিমাণ ভোট পড়বে বা কত সংখ্যক ভোটার আসলেই ভোটকেন্দ্রে যাবেন সেটি এখনো নিশ্চিত হওয়া না গেলেও, ইসি এটুকু নিশ্চিত করেছে যে এবার ভোট গুনতে সময় বেশি লাগবে।
বৃহস্পতিবার নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানিয়েছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ।
তিনি বলেন, ‘দুই ব্যালটে ভোটের কারণে এবার ভোট গণনার ক্ষেত্রে সময় বেশি লাগবে।দ্বিতীয়ত হচ্ছে আপনার প্রার্থীর সংখ্যাও বেশি। কাজেই গণনাতে স্বাভাবিকের থেকে একটু বেশি সময় লাগতে পারে।’
বেশি সময় লাগবে বুঝতে পেরেও কেন কেন্দ্র সংখ্যা বাড়ানো হলো না, সে প্রশ্ন রাখেন সাংবাদিকরা।
জবাবে ইসি সচিব বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা না বাড়িয়ে বুথের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। কেন্দ্রের সংখ্যাও কিছু বেড়েছে। যাতে কুইকলি রেজাল্ট করা যায়।’
আনুমানিক কতক্ষণ সময় লাগতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা নির্ভর করছে বিদেশ থেকে কত ভোট ফেরত আসবে সেটার উপরে। এটা আগেই বলা ডিফিকাল্ট।’
এবারের নির্বাচন দেখতে এবং সংবাদ সংগ্রহে প্রায় ৫০০ বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক আসতে পারেন বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ। এদের মধ্যে আমন্ত্রিতদের রাখা হবে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে।
ইসি সচিব বলেন, আমাদের দুটি পদ্ধতি ছিল। একটি আমরা স্ব-উদ্যোগে ইনভাইটেশন করেছি। আরেকটি ছিল জার্নালিস্ট ও অবজারভারদের জন্য ওপেন ইনভাইটেশন। এ পর্যন্ত ৫০ জন সাংবাদিক আমাদের কাছে তাদের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ৭৮ জন অবজারভার ও ৫০ জন সাংবাদিক আসতে চান। এটি প্রতিনিয়ত বাড়ছে।
ইসি সচিব বলেন, ‘এই মুহূর্তে ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৫৬ জন প্রতিনিধি অবস্থান করছেন। এই সংখ্যাটি পরবর্তীতে প্রায় ৩০০ এর কাছাকাছি যাবে বলে আমাদের ধারণা দেওয়া হয়েছে। কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট থেকে আমরা ইনভাইট করেছিলাম, তারা ১০ জন আসবেন। তুরস্ক থেকেও আমরা ইনভাইট করেছিলাম, তবে তারা সম্ভবত ৯ জন আসবেন। আমাদের ধারণা প্রায় ৫০০ বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক আসবেন।’
এবারের নির্বাচন ঘিরে অন্যান্য সময়ের মতো মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বন্ধ হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন আখতার আহমেদ।
তিনি বলেন, ‘মোবাইল ব্যাংকিংয়ের বিষয়ে আমরা কথা বলেছি। মোবাইল ব্যাংকিং সেবা এবার পুরোপুরি বন্ধ আমরা করব না। তবে লিমিট করা হবে। ই-ব্যাংকিংয়ের বিষয়টিও আলোচনা হয়েছে। নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে ২৪ বা ৪৮ ঘণ্টার জন্য ট্রানজেকশন বন্ধ করা হবে না।’
এছাড়া প্রথম বারের মতো নির্বাচনী মাঠে ভলেন্টিয়ার হিসেবে বিএনসিসির প্রায় ১৬ হাজার সদস্য থাকবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।


