ভেনেজুয়েলায় ‘বড় পরিসরে হামলা’ চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যালের পোস্টে এ কথা জানান।
বিবিসির খবরে বলা হয়, ট্রাম্প তার পোস্টে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র সফলভাবে ভেনেজুয়েলা এবং এর নেতা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে একটি বড় পরিসরের অভিযান পরিচালনা করেছে। সস্ত্রীক তাকে আটক করে ভেনেজুয়েলা থেকে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’
তবে ভেনেজুয়েলার সাবেক উপমন্ত্রী রই লোপেজ রিভাস এক এক্স পোস্টে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে নিরাপদ ও সুস্থ আছেন।’

এই অভিযানটি যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত হয়েছে জানিয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলে নিশ্চিত করেন ট্রাম্প।
তিনি জানান, মাদুরো ও অভিযানের বিষয়ে স্থানীয় সময় শনিবার সকাল ১১টায় ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের বাসভবন মার-এ-লাগোতে একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

অভিযান সম্পর্কে নিউইয়র্ক টাইমসকে ট্রাম্প বলেন, ‘অনেক ভালো পরিকল্পনা ছিল। দক্ষ সেনারা ও অসাধারণ কর্মকর্তারা এই অভিযানের পরিকল্পনা করেছেন। আসলে এটি সফল একটি অভিযান।’
এদিকে বার্তা সংস্থা এপির খবরে বলা হয়, স্থানীয় সময় শনিবার ভোরে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে আকস্মিক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এ সময়, একাধিক বিস্ফোরণ ও বেশ কম উচ্চতায় একাধিক যুদ্ধবিমান উড়তে দেখা যায়।
প্রেসিডেন্ট মাদুরোর সরকার তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বেসামরিক ও সামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগ তোলে। তারা এটিকে ‘সাম্রাজ্যবাদী হামলা’ বলে অভিহিত করে দেশের নাগরিকদের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসার আহ্বান জানান।

প্রায় ৩০ মিনিট ধরে চলা ওই হামলায় অন্তত সাতটি বিস্ফোরণ ঘটে বলে জানান স্থানীয় জনগণ। অনেকেই আতঙ্কে ঘর থেকে বাইরে বেড়িয়ে আসেন। তবে এসব হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
গত বছরের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের অভিযোগ এনে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোর বিরোধিতা শুরু করেন ট্রাম্প। এরপর গত সেপ্টেম্বরে আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় থাকা ভেনেজুয়েলার জাহাজগুলোতে সামরিক হামলা শুরু করে পেন্টাগন।

ওয়াশিংটনের দাবি, এসব জাহাজে মাদক পরিবহন করা হচ্ছিল। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদক ও মাদক কার্টেলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান না নিলে দেশটির অভ্যন্তরে হামলার হুঁশিয়ারিও দেন ট্রাম্প।
তবে প্রেসিডেন্ট মাদুরো দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক অভিযানগুলো তাকে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য একটি ‘ছদ্মবেশী প্রচেষ্টা’।


