ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে অন্তত ৩২ প্রাণহানি, আহত ৭ শতাধিক

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে অন্তত ৩২ প্রাণহানি, আহত ৭ শতাধিক
ধসে পড়া ভবনে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন জরুরি সেবাকর্মীরা। ছবি: এপি/ইউএনবি
Advertisement
Advertisement

ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে অন্তত ৩২জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৭০০ জনেরও বেশি। দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় ভূমিকম্পের পর প্রথম সরকারি ঘোষণায় এসব তথ্য জানান।

বার্তা সংস্থা এপির খবরে বলা হয়, রদ্রিগেজ সবাইকে সতর্ক করে বলেন, ধসে পড়া ভবনগুলোতে উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় এবং জরুরি সেবা দল ধ্বংসস্তূপে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

বৃহস্পতিবার ভোরে প্রকাশিত হতাহতদের প্রাথমিক হিসাবের মধ্যে লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তিনি ওই এলাকাকেই ‘দুর্যোগ কবলিত অঞ্চল’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘এই অঞ্চলই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কারাকাস থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার উত্তরে ওই এলাকায় বহু ভবন ধসে পড়েছে। সেখানে মানুষের প্রাণ বাঁচাতে আমরা নিবিড় উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি।’

ভেনেজুয়েলার উপকূলের কাছে বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। একই সঙ্গে ভূমিকম্পের পর এই পর্যন্ত অন্তত বিশটি আফটারশক (ভূমিকম্প পরবর্তী ঝাঁকুনি) অনুভূত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, প্রথম ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ক্যারিবীয় উপকূলীয় শহর মোরনের পশ্চিমে, রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ১৬৮ কিলোমিটার দূরে। এর গভীরতা ছিল ২২ কিলোমিটার। মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে দ্বিতীয় ও আরও শক্তিশালী ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে, যার কেন্দ্র ছিল মোরনের দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার।

আরও পড়ুন

এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে এ দুটি অন্যতম। এর প্রভাবে বিভিন্ন শহরের ভবন খালি করে দেওয়া হয়। এমনকি রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় এক হাজার ৭০০ কিলোমিটার দূরে ব্রাজিলের আমাজন অঞ্চল পর্যন্ত ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়।

এর পরপরই রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া সংক্ষিপ্ত ভাষণে রদ্রিগেজ জানান, জোড়া ভুমিকম্পে দেশের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ সময় তিনি দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন।

ডেলসি রদ্রিগেজ জানান, ভূমিকম্পে কারাকাসের কাছে অবস্থিত দেশটির প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সিমোন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া রাজধানী কারাকাসে পাতালরেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহও বন্ধ রাখা হয়েছে। তিনি নাগরিকদের সরকারি একটি অ্যাপের মাধ্যমে যেকোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য জানানোর আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, কয়েক দিনের জন্য দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকক্ষের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কিছু বিদ্যালয় ভবনকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র ও ত্রাণ সংগ্রহকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

দেশবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে রদ্রিগেজ বলেন, ‘আহতদের চিকিৎসায় সহায়তা করতে স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীদের দ্রুত হাসপাতালে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানাই।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad