বর্তমান সরকার ভূমি ব্যবস্থাপনাকে ধাপে ধাপে আধুনিক, জনবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। সোমবার ‘ভূমিসেবা মেলা ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা সাংবাদিকরা জাতির বিবেক; আপনারা আমাদেরকে সচেতন করবেন। আমরা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দেশ সেবা করতে চাই। আগে অনেকে নিজেদেরকে দেশের মালিক ভাবতেন। শুধু আমি আর আমার কথা বলতেন। আমি বলতে চাই–আমরা এবং আমাদের দেশ।’
মন্ত্রণালয় নিয়ে মানুষের অনেক প্রত্যাশা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জানি এই পথ অনেক কঠিন; আমরা চেষ্টা করছি মানুষের সেবক হতে। আমরা যারা রাজনীতি করি আমাদের অনেক সময় ভুল হতে পারে। আপনারা আমাদেরকে সচেতন করবেন।’
ব্রিফিংয়ে ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি ভূমি মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমুক্ত এবং হয়রানি ছাড়া সেবা প্রদানের আমাদের যে প্রচেষ্টা এটাকে দৃশ্যমান করতে। আমরা জনগণকে যে সেবাগুলো প্রদান করছি অনেকে এটার ব্যাপারে সচেতন না; আমাদের চেষ্টা হচ্ছে এই ব্যাপারে তাদেরকে সচেতন করা।’
তিনি জানান, হয়রানি এবং দুর্নীতিরোধে স্বয়ংক্রিয় সেবাগুলো এখনো প্রান্তিক পর্যায়ে বা সিটি পর্যায়ে অনেকে জানেন না। সেটি জানানোর জন্যই এই মেলার আয়োজন।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন বাংলাদেশ এর জনগণই হচ্ছে এদেশের মালিক। আমাদের মন্ত্রণালয় ও এর ব্যতিক্রম নয়। আমাদের কাছে যারা সেবা নিতে আসেন তারা যেন আমাদের কর্মকাণ্ডে ভাবেন তারা এদেশের মালিক।’
অনুষ্ঠানের সভাপতি ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ জানান, ভূমি মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ই-নামজারি, অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান, অনলাইনে খতিয়ান ও মৌজা ম্যাপ প্রাপ্তি, ডাকযোগে ভূমিসেবা ও ডিসিআর ফি প্রদানসহ বিভিন্ন ভূমিসেবা জনগণের নিকট সহজলভ্য করেছে। মেলা আয়োজনের মাধ্যমে নাগরিকরা হয়রানিমুক্ত সেবা গ্রহণের পাশাপাশি অটোমেটেড ভূমিসেবা সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করবে।
‘ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধন মঙ্গলবার
ভূমি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আগামী ১৯ থেকে ২১ মে ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী ‘ভূমিসেবা মেলা ২০২৬’ দেশব্যাপী একযোগে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ে ঢাকার তেজগাঁওয়ে ভূমি ভবনে এই মেলা আয়োজিত হচ্ছে। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই মেলার উদ্বোধন করবেন।
এ বছরের মেলার প্রতিপাদ্য বিষয়: ‘জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা: সুরক্ষিত ভূমি, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ’।
মেলার মূল উদ্দেশ্যগুলো-অটোমেটেড ভূমিসেবা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা, ভূমি অফিসে না গিয়ে ঘরে বসে নাগরিকদের ভূমিসেবা প্রাপ্তির বিষয়ে ধারণা দেওয়া, মেলায় সরাসরি ভূমিসেবা প্রদান, অটোমেটেড ভূমিসেবা সিস্টেম ব্যবহারে এবং ভূমি উন্নয়ন কর প্রদানে নাগরিকদের উৎসাহিত করা ও রাজস্ব বৃদ্ধিতে সহযোগিতা এবং ভূমিসেবা সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও তাৎক্ষণিক সমাধান।
জাতীয়ভাবে ভূমি ভবনে ভূমি মন্ত্রণালয় ও এর দপ্তর/সংস্থার পক্ষ থেকে ৫টি, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ঢাকা ও ঢাকা মহানগরের সার্কেল অফিসসমূহ কর্তৃক ১৫টি এবং প্রতিটি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ২০টি ভূমিসেবা স্টল থাকবে।
মেলায় অডিও-ভিডিও কনটেন্ট প্রদর্শন, কুইজ প্রতিযোগিতা, সেমিনার, ভূমি আড্ডা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রমের আয়োজন থাকবে। সাধারণ জনগণের মধ্যে ‘ভূমি আমার ঠিকানা’ শীর্ষক বুকলেট, লিফলেট ও স্টিকার বিতরণ করা হবে।
মেলা উপলক্ষে জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সুশীল সমাজের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং টেলিভিশন, বেতার, মেট্রোরেল, মাইকিং ও ভ্রাম্যমাণ ভূমিসেবা ভ্যানের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালানো হচ্ছে। এ সময় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


