ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এএস এম সালেহ আহমেদ বলেছেন, ‘একটি দেশের অর্থনীতি, কৃষি, বসতি ও শিল্পের মূল ভিত্তি হলো ভূমি। তাই ভূমি ব্যবস্থাপনা ও ভূমি সেবা জনগণের জীবনের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পর্কিত।’
তিনি বলেন, ‘ভূমি ব্যবস্থাপনাকে কার্যকর ও স্বচ্ছভাবে পরিচালনা করার জন্য সহকারী কমিশনারদের (ভূমি) ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসনের ভাবমূর্তি ধরে রাখতে নীতি নৈতিকতা ও সততার সঙ্গে কাজ করতে হবে।’
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ভূমি প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (এলএটিসি) নব নিযুক্ত সহকারী কমিশনারদের (ভূমি) ‘৪৫ ও ৪৬তম বেসিক ভূমি ব্যবস্থাপনা কোর্স’ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
পাঁচ সপ্তাহব্যাপী এই প্রশিক্ষণে মোট ১০০ জন সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রশিক্ষণার্থীরা তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেন।
এএস এম সালেহ আহমেদ আরও বলেন, ‘সাধারণ মানুষ যেনো বলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘুষ খায় না, হয়রানি করে না। প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান দিয়ে জনসেবার মানসিকতা নিয়ে নির্ধারিত সময়ে সেবা গ্রহীতাদের সেবা প্রদানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। মনে রাখতে হবে ভূমি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে জনগণের ভরসাস্থল ভূমি অফিস, সেই ভূমি অফিসকে মানুষের আস্থার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘ভূমি নিয়ে সমস্যা বেশি, অভিযোগও বেশি। এই সমস্যা ও অভিযোগ দুটিই ম্যানেজ করতে হবে আইন ও ন্যায়ের দ্বারা। নিজেদের জনবান্ধব হিসেবে তুলে ধরতে হবে। নিজের কর্মস্থলে নেতৃত্ব নিতে হবে এবং সকল সামাজিক কাজে সম্পৃক্ত রাখতে হবে।’
ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আরও বলেন, ‘প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সকল বিষয় জানতে হয়। বিশেষায়িত জ্ঞান অর্জন করতে হবে। অনেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) জনবান্ধব সেবা প্রদানের মাধ্যমে মানুষের কাছে সুপরিচিত হয়েছেন। তাদের অনুসরণ করতে হবে, অন্যথায় প্রশাসন ক্যাডারের অস্তিত্ব ভূলুণ্ঠিত হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভূমির শতভাগ সেবা অনলাইনে এসেছে। কিন্তু জনগণ অনলাইনে সেভাবে সেবা গ্রহণে অভ্যস্ত নয়; তাদের দায়িত্বও নিতে হবে। নাগরিকদের সুবিধার জন্য সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।’
‘সহকারী কমিশনার (ভূমি) দের স্বত্বলিপি প্রণয়ন, জমা খারিজ ও জমা একত্রীকরণের মাধ্যমে খতিয়ান সংশোধন, সিকস্তি পয়স্তি জমির ব্যবস্থাপনা এবং রেকর্ড হালকরণ, সায়রাত মহাল ব্যবস্থাপনা, দেওয়ানি মামলা ব্যবস্থাপনা, সরকারী পাওনা আদায় ব্যবস্থাপনা, অর্পিত সম্পত্তি/খাস জমি ব্যবস্থাপনা-খাস জমি চিহ্নিতকরণ, অর্পিত সম্পত্তি/খাসজমি উদ্ধারের পদক্ষেপ গ্রহণ, এলএ কেইসের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এই সংক্রান্ত ভূমি ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট রেজিস্টারসমূহ হালকরণ করতে হয়,’ যোগ করেন তিনি।
প্রশিক্ষণার্থীদের অবহিত করার জন্য সরকারী স্বার্থ রক্ষার জন্য ভূমি সংক্রান্ত সকল আইন, বিধি, ম্যানুয়াল, পরিপত্র ও অন্যান্য বিষয়ে সর্বশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) এজেএম সালাহউদ্দিন নাগরী; ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (গ্রেড-১) মে. সাইদুর রহমান ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মো. এমদাদুল হক চৌধুরী।
এ ছাড়া, ভূমি প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (এলএটিসি) এর উপপরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) সবুর খান স্বাগত বক্তব্য দেন এবং ভূমি প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (এলএটিসি) পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) রুমানা রহমান শম্পা সভাপতিত্ব করেন।
অনুষ্ঠানের শেষে কৃতি প্রশিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন প্রধান অতিথি ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব।


