ভূমিকম্পে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আহত ৩৯ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এদের মধ্যে ৫ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে এক রিকশাচালকের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং কয়েকজন চিকিৎসা নিয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরে গেছেন।
আহতরা হলেন, ঢাবির জিয়া হলের আরাফাত (২০) ও নুরুল হুদা (২০); মহসিন হলের তানজিল হোসেন (২৬) ও সাদিক শিকদার (২৬)।
বাকিরা হলেন- তানভীর (২২), সুবিয়া (১৪), সোহেল (৩৫), হারুনুর রশিদ (৫৬), আবুল খায়ের (৬০), অজ্ঞাতনামা রিকশাচালক (৪০), হারুনুর রশিদ (৫৫), রিপন (২৮), বিল্লাল (৬), ফারজানা তানভীর (২৩), প্রভা (১৮), গালিব (১৮), মধু (৩০), সজীব (২২)।

হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা জানান, এখন পর্যন্ত মোট ৩৯ জন জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঢামেকের টিকিট কাউন্টারের অফিস সহকারী তরিকুল ইসলাম টাইমস অব বাংলাদেশকে জানান, ভূমিকম্পের পর থেকেই আহতরা হাসপাতালে আসতে শুরু করেন এবং বিভিন্ন এলাকা থেকে আহত অনেকে এখনো হাসপাতালে আসছেন।
চিকিৎসকের বরাত দিয়ে ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক মোহাম্মদ ফারুক জানান, ভূমিকম্পের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে আনা হয়। এ ছাড়া হাতিরঝিল এলাকা থেকে এক রিকশাচালককে গুরুতর আহত অবস্থায় আনা হয়েছে।
শুক্রবার বেলা ১০টা ৩৮ মিনিটে কেঁপে ওঠে বাংলাদেশ ও ভারতের কিছু অংশ।
ইউএসজিএস জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৫। তবে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৭।
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল নরসিংদীর ঘোড়াশাল থেকে সাত কিলোমিটার দূরে এবং ভূমিপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে।
এর আগে সকালে পাকিস্তানেও ৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। তার কয়েক ঘণ্টা পরই বাংলাদেশে আরেকটি বড় মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানল।
ভূমিকম্পের তীব্রতায় ঢাকার ভবনগুলো কাঁপতে শুরু করে। আতঙ্কিত হয়ে ভবনের নিচে নেমে আসেন বাসিন্দারা। বিভিন্ন এলাকা থেকে টাইলস ফেটে যাওয়া, টেবিল থেকে জিনিসপত্র পড়ে যাওয়ার খবর আসছে। বাড্ডার লিংক রোড এলাকার একটি ভবন পাশের ভবনের ওপর হেলে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।


