ভারতীয় পতাকার আদলে গাছে রং আ.লীগ নেতার, বিতর্ক

ভারতীয় পতাকার আদলে গাছে রং আ.লীগ নেতার, বিতর্ক
ভারতীয় পতাকার আদলে গাছে রং করেন আওয়ামী লীগ নেতা ও রাইগাঁ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজি বাজার থেকে বদলগাছী সড়কের পাশের গাছগুলোতে ভারতীয় পতাকার আদলে রং করার ঘটনায় স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, রাইগাঁ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, আওয়ামী লীগ নেতা ও রাইগাঁ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আরিফুর রহমানের উদ্যোগে সড়কের পাশের প্রায় ১ কিলোমিটার এলাকার গাছে এই রং করা হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমালোচনার ঝড় ওঠে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজি-বদলগাছী আঞ্চলিক সড়কের সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে রাস্তার পাশের গাছগুলোতে রং করা হয়। তবে ভারতীয় জাতীয় পতাকার গেরুয়া, সাদা ও সবুজ রঙের সঙ্গে হুবহু মিল রেখে এই রং ব্যবহার করায় বিষয়টি পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে আসে। পরে এসব গাছের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় তীব্র বিতর্ক।

এলাকাবাসীর অনেকেই মনে করছেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে অন্য একটি দেশের জাতীয় পতাকার আদলে রং করা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে একজন জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছ থেকে এমন কর্মকাণ্ড প্রত্যাশিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তারা।

স্থানীয় কয়েকজন সচেতন নাগরিক বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়ে সবাইকে আরও বেশি সতর্ক ও সংবেদনশীল হওয়া প্রয়োজন। তারা বলেন, সৌন্দর্যবর্ধনের নামে এমন রং ব্যবহার করার আগে বিষয়টি নিয়ে আরও চিন্তাভাবনা করা উচিত ছিল। একজন জনপ্রতিনিধির যেকোনো কাজ সাধারণ মানুষের কাছে বার্তা বহন করে। তাই দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের আরও সচেতন থাকা জরুরি।

আরও পড়ুন

তবে সমালোচনার মুখে গাছগুলোতে পুনরায় লাল রং করে আগের রং ঢেকে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা বলছেন, বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হওয়ার পর দ্রুতই রং পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয় রাইগাঁ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আরিফুর রহমান সরদার।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আরিফুর রহমান বলেন, ‘আমি ঢাকা থেকে এসে আপনার সঙ্গে দেখা করব।’

নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান না বুঝে এই কাজ করেছেন বলে জানিয়েছেন এবং তিনি নিজেই সেটি মুছে দেওয়ার কথা বলেছেন। তাকে এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। প্রশাসন এ ধরনের বিষয়ে সর্বদা সজাগ রয়েছে।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad