পাবনায় স্থানীয় প্রভাবশালীদের সঙ্গে ভাগবাটোয়ারা না হওয়ায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) সরকারি লাখ লাখ টাকা মূল্যের খড় পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার সকালে এসব খড় পুড়িয়ে ফেলা হয়।
তবে বিএডিসি কর্তৃপক্ষের দাবি, জমির উর্বরতা বাড়াতেই খড় পোড়ানো হয়েছে।
বিএডিসি কর্মকর্তা, কর্মচারী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাবনা সদর উপজেলার টেবুনিয়াতে অবস্থিত বিএডিসিতে গবেষণার জন্য প্রায় তিন শতাধিক একর জমিতে ধান চাষ করা হয়। এসব ধান কাটার পর বিপুল পরিমাণ খড় হয়। পরে তা সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নিলামে বিক্রি হয়। এতে প্রতিবছর সাত থেকে দশ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়।
কিন্তু এ বছর তা করা হয়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বিএডিসি কর্মকর্তা বলেন, স্থানীয় প্রভাবশালী ও কর্মকর্তাদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা না হওয়ায় খড়গুলো পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। মূলত স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের দ্বন্দ্ব ও কর্মকর্তাদের অনীহাই খড় পুড়িয়ে ফেলার কারণ।
বিএডিসির আশপাশের বাসিন্দারা জানান, প্রতি বছর নিলামে প্রতি একর জমির খড় আট থেকে দশ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও এ বছর স্থানীয় প্রভাবশালীরা তা বিনামূল্যে বা অল্প মূল্যে নিতে চেয়েছিল। যা করলে কর্মকর্তারা নিজেদের ভাগবাটোয়ারা থেকে বঞ্চিত হতেন।
এজন্যই বিএডিসির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা মিটিং করে খড় পুড়িয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন বলে তারা জানতে পেরেছেন।
টাইমস অব বাংলাদেশ এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ এস এম মাহবুব-অর-রশিদ বলেন, ‘উপর মহল থেকে নির্দেশ এসেছে খড় পুড়িয়ে সার হিসেবে ব্যবহার করতে। পুড়িয়ে ফেলা খড়ের ছাই নাকি জমির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। সেজন্যই পোড়ানো হয়েছে।’
ভাগবাটোয়ারা নিয়ে প্রভাবশালীদের দ্বন্দ্বের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।


