ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তানিম নূরের চলচ্চিত্র ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর দুটি প্রদর্শনী বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জেলার ১০টি সাংস্কৃতিক সংগঠন। সোমবার (১ জুন) দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনগুলো এই ঘটনাকে অগণতান্ত্রিক ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার পরিপন্থী বলে অভিহিত করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত ৩০ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটির উদ্যোগে অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পূর্বানুমতি নিয়ে চলচ্চিত্রটির একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু একটি মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় আবেগের ভুল ব্যাখ্যা তুলে ধরে প্রদর্শনীর বিরুদ্ধে প্রচার চালালে ভেন্যু কর্তৃপক্ষ অনুমতি প্রত্যাহার করে নেয় এবং প্রদর্শনীটি স্থগিত হয়।
একই দিন কসবা উপজেলার তালতলা গ্রামে স্থানীয় তরুণদের উদ্যোগে আয়োজিত আরেকটি প্রদর্শনীও স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্ধ করে দেওয়া হয়। দুটি ঘটনাই বিবৃতিতে ‘গভীর উদ্বেগজনক’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
‘বনলতা এক্সপ্রেস’ বাংলাদেশ ফিল্ম সার্টিফিকেশন আইন, ২০২৩ অনুযায়ী সরকার কর্তৃক প্রদর্শনের অনুমতিপ্রাপ্ত একটি চলচ্চিত্র। ইতোমধ্যে দেশ-বিদেশে চলচ্চিত্রটির প্রদর্শনী প্রশংসিত হয়েছে। এর নির্মাতা তানিম নূর নিজেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সন্তান। ওস্তাদ আলাউদ্দীন খাঁ ও কবি আল মাহমুদের স্মৃতিধন্য ‘সাংস্কৃতিক রাজধানী’ খ্যাত এই জেলায় নিজ জন্মভূমিতে তার চলচ্চিত্র প্রদর্শন করতে না পারাকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে অভিহিত করেছেন বিবৃতিদাতারা।
বিবৃতিদাতারা আরও বলেন, ‘কোনো মহলবিশেষের অগণতান্ত্রিক আচরণ, অসহনশীলতা ও উগ্রতাকে আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। সকলের মতপ্রকাশের অধিকার এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল।’
প্রধানমন্ত্রী তার কন্যাসহ প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে চলচ্চিত্র উপভোগের বিষয়টি উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, এমন বাস্তবতায় চলচ্চিত্রের প্রতি বৈরি দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অনুশীলন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, খেলাঘর, উদীচী, জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, আবরণী, কবির কলম, চারণ, সোনালি সকাল ও আজকের সংস্কৃতি সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন।


