বিভিন্ন ব্যাংকে নাসা গ্রুপের নামে জমা থাকা টাকা থেকে প্রতিষ্ঠানটি শ্রমিক কর্মচারীদের বকেয়া বেতনসহ অন্যান্য পাওনা পরিশোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বহুপক্ষীয় এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, শ্রমিকপক্ষ, নাসা গ্রুপের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তারা।
সভা শেষে সচিব মো. সানোয়ার জাহান ভুঁইয়া বলেন, ‘গত ২৩ সেপ্টেম্বর নাসা গ্রুপের বিদ্যমান সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে শ্রমিক, মালিক ও সরকারের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা চুক্তি সই হয়। সে অনুযায়ী, কারখানাগুলোর শ্রমিকের বকেয়া পাওনা নাসা গ্রুপই পরিশোধ করবে।’
সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, নাসা গ্রুপ কর্তৃপক্ষকে তাদের শ্রমিক কর্মচারীদের বকেয়া বেতন ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধের জন্য ফান্ড সংগ্রহ করে দ্রুত পাওনা পরিশোধের ব্যবস্থা করবে। এজন্য কর্তৃপক্ষকে সব শ্রমিকের পাওনা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধের ব্যবস্থা করতে হবে। যেসব শ্রমিকের এমএফএস অ্যাকাউন্ট নেই, তাদের নামের বিস্তারিত তালিকা করে আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে অ্যাকাউন্ট খোলার ব্যবস্থা করতে হবে।
এছাড়া এক্সিম ব্যাংকে জমা থাকা নাসা গ্রুপের প্রায় ২৪ কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে ছাড়ের ব্যবস্থা করতে হবে। একইভাবে ইসলামি ব্যাংকে থাকা দুই কোটি ১৮ লাখ ৪১ হাজার ৮৪০ টাকা এবং সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকে থাকা চার কোটি ২৬ লাখ ৫৫ হাজার ৫০৭ টাকা থেকে এক শতাংশ ডাউন পেমেন্ট কেটে বাংলাদেশের মাধ্যমে বাকি টাকা ছাড় করতে হবে। এরপর সেই টাকার থেকে পরিশোধ করতে হবে শ্রমিকদের পাওনা।
গতবছর ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে আত্মগোপনে যান নাসা গ্রুপ ও এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার। এরপর ২ অক্টোবর গ্রেপ্তার হন তিনি। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে।
নজরুল ইসলাম মজুমদার গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই নাসা গ্রুপে অস্থিরতা তৈরি হয়। যে গ্রুপের মালিকানাধীন ৩৪টি কারখানায় কাজ করতেন ৩০ হাজারের বেশি শ্রমিক। তাদের বেতন-ভাতা বকেয়া পড়তে থাকে। কোনো পথ না পেয়ে বিক্ষোভে নামেন শ্রমিকরা। মহাসড়ক বন্ধ করেও তাদের বিক্ষোভ করতে দেখা যায়।
সব গত সপ্তাহে কলকারখানা প্রতিষ্ঠান ও পরিদর্শন অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে শ্রমিক নেতাদের উপস্থিতিতে ত্রিপক্ষীয় সভায় নাসা গ্রুপের ১৬ কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। সেসময় বলা হয়, বিদ্যুৎ-গ্যাসসংকট ও ক্রয়াদেশ না থাকায় ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে এসব কারখানার সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
কিন্তু কারখানা বন্ধ হলে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন-ভাতার কী হবে তা নিয়ে শঙ্কা শুরু হয়। এমন অবস্থায় সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নিয়ে বেতন পরিশোধের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মঙ্গলবারের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কারাগারে থাকা নজরুল ইসলাম মজুমদারের কাছ থেকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নিতে হবে গ্রুপ কর্তৃপক্ষকে। এই দলিলে সইয়ের সময় একজন বিচারিক হাকিম বা নির্বাহী হাকিমের উপস্থিতি নিশ্চিত করবে সরকার।
পাশাপাশি নাসা গ্রুপ শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের জন্য সমঝোতা চুক্তির অঙ্গীকার অনুযায়ী শ্রমিকদের উদ্দেশে একটি ভিডিও বার্তাও প্রচার করা হবে।


