শুক্রবার ঘরের মাঠে দর্শক সমর্থনের পুরোটাই সিলেট টাইটান্সের দখলে। নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপক্ষে জয়ের জন্য লক্ষ্য ছিল ১৪৪ রানের। পারভেজ হোসেন ইমনের ৪১ বলে ৬০ রানের ইনিংসে জয়ের পথে থাকলেও নাটকের বাকিটা জমা ছিল শেষ ওভারের জন্য।
এর আগে, মেহেদী হাসান রানা করেছেন হ্যাটট্রিক। জয় থেকে ১৩ রান দূরে ছিল সিলেট। ঘটনাবহুল ছিল সাব্বির হোসেনের করা প্রতিটি বলই। তবে শেষের নাটকে এক উইকেট হাতে রেখে জিতলেন মেহেদী হাসান মিরাজরা।
বোলার সংকট থাকায় অধিনায়ক সৈকত আলী শেষ ওভারে নিয়ে আসেন সাব্বিরকে, যিনি আবার মূল বোলার নন। প্রথম দুই বলে স্ট্রাইকে থাকা ইথান ব্রুকস ব্যাটে-বলেই করতে পারেননি। তৃতীয় বলে হয় হাই নো। যেটা সাব্বিরের হাত থেকে ছুটে গিয়ে সোজা লাগে ব্রুকসের হেলমেটে।
পরের দুই বলে ছক্কা আর চার মেরে সিলেটের এই ইংলিশ ব্যাটার সমীকরণ নিয়ে আসেন ২ বলে ২ রানে। পঞ্চম বলে ডানহাতি ব্রুকস রান আউট হলে লড়াই আরো জমে ওঠে।
স্ট্রাইকে আসেন শেষ ব্যাটার সালমান ইরশাদ। সাব্বিরের করে বসেন ওয়াইড। সিলেটের জয় আর সুপার ওভারের মধ্যে ব্যবধান তখন ১ রানের। শেষ বল সোজা গিয়ে লাগে ইরশাদের প্যাডে। হয় জোরালো আবেদন এলবিডব্লিউয়ের।
ততক্ষণে সিঙ্গেল নেওয়ায় ম্যাচ চলে যায় সিলেটের দখলে। যদিও রিভিউ নিয়েছিল নোয়াখালী, তবে রিপ্লেতে দেখা যায় বল যাচ্ছিল লেগ স্টাম্পের বাইরে। বড় স্ক্রিনে নট আউট লেখা উঠতেই আরো একবার গর্জে ওঠে সিলেটের গ্যালারি।
এর আগে, ১৮ তম ওভারের শেষ তিন বলে টানা তিন উইকেট নিয়ে নবম বাংলাদেশি বোলার হিসেবে বিপিএলে হ্যাটট্রিক করেন বাঁহাতি পেসার রানা। যদিও শেষ পর্যন্ত বৃথা গেছে তার এই দারুণ ওভারটা।
রান তাড়ায় নেমে আজও বড় ইনিংসের দেখা পেয়েছেন পারভেজ ইমন। টানা দুই ম্যাচে করেছেন ফিফটি। রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে শুক্রবার টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে তার ৩৩ বলে ৬৫* রানের ইনিংস বৃথা গেলেও নাটকীয় দ্বিতীয় ম্যাচে কাজে এসেছে তার ৬০ রানের ইনিংস।
মাঝারি লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই সাইম আইয়ুব ক্যাচ দেন উইকেটকিপারা জাকের আলীর হাতে। ৯ রানে ফিরেছেন ওপেনার রনি তালুকদার। শেষ ওভারে আউট হওয়া ব্রুকস করেন ১৩ বলে ১৬। তবে অধিনায়ক মিরাজের ৩৭ বলে ৩৩ রানের ইনিংস প্রশ্ন তুলে দিয়েছে অনেক। রানা নেন চার উইকেট, হাসান মাহমুদ নেন দুই উইকেট।
এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে খালেদ আহমেদের সঙ্গে সাইম আইয়ুবের দারুণ বোলিংয়ে শুরুতেই চাপে পড়ে নোয়াখালী। ইনিংসের প্রথম বলেই ফেরেন ওপেনার মাজ সাদাকাত। পরের ওভারে খালেদের জোড়া আঘাতে থামেন হাবিবুর সোহান ও হায়দার আলী। সাব্বির হোসেন আর সৈকত আলী ফিরেছেন সাইমের ঘূর্ণিতে।
ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল মাহিদুল ইসলাম। তিন ছক্কা আর এক চারে ৫১ বলে করেছেন ৬১ রান। ইনিংসের শেষ বলে খালেদকে মেরেছেন তৃতীয় ছয়। যদিও শেষ ওভারেই হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন খালেদ। টানা দুই বলে ফিরেছেন ২৯ রানের ক্যামিও খেলা জাকেরকে। পরের বলে নেন রেজাউর রহমান রাজার উইকেট।


