শিক্ষা, গবেষণা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে অগ্রগতি ধরে রেখে বিশ্ব র্যাংকিংয়ে জায়গা করে নিয়েছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি)। ‘টাইমস হায়ার এডুকেশন ২০২৬’ র্যাংকিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি বিশ্বে ১২০১–১৫০০ এবং দেশে ১২তম স্থান অর্জন করেছে।
শিক্ষা ও গবেষণায় অগ্রগতির ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
শনিবার সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ ইসমাইল।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘টাইমস হায়ার এডুকেশন ২০২৬’ র্যাংকিংয়ে নোবিপ্রবি বিশ্বে ১২০১–১৫০০ অবস্থানে এবং দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ১২তম স্থান অর্জন করেছে।
উপাচার্য বলেন, গবেষণার বিভিন্ন সূচকে বিশ্ববিদ্যালয়টি ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ইন্টারডিসিপ্লিনারি সায়েন্স র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশে ৭ম এবং ফিজিক্যাল সায়েন্সে দেশে ৩য় স্থান পেয়েছে নোবিপ্রবি।
গবেষণা ও শিক্ষা বিনিময় জোরদারে চীন, তুরস্ক ও নেদারল্যান্ডসের ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে বলেও জানান তিনি।
শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের গবেষণায় উৎসাহ দিতে প্রায় ১ কোটি টাকার গবেষণা প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১ কোটি টাকার একটি যৌথ গবেষণা তহবিল গঠন করা হয়েছে।
উপাচার্য জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে কয়েকটি বড় লক্ষ্য সামনে রেখে এগোচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়। এর মধ্যে রয়েছে দেশের শীর্ষ ৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় স্থান করে নেওয়া, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে ৫০টি পেটেন্ট অর্জন ও প্রয়োগ, বিশ্বের সেরা ৫০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া এবং স্কোপাস ইনডেক্স জার্নালে ৫ হাজার গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ।
শিক্ষার্থীদের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে ক্যাম্পাসে অবকাঠামোগত উন্নয়নও করা হচ্ছে। ৩১৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ব্যয়ে তৃতীয় একাডেমিক ভবন ও কেন্দ্রীয় গবেষণাগার নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রকল্প একনেকে অনুমোদনের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া, প্রশাসনিক কার্যক্রমে ডিজিটালাইজেশন করে ই-নথি চালু করা হয়েছে। স্মার্ট ক্লাসরুম, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির আধুনিকায়ন, পুরো ক্যাম্পাসে হাই-স্পিড ইন্টারনেট ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
প্রথমবারের মতো ১২টি বিভাগে পিএইচডি প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য কোডিং পদ্ধতিতে পরীক্ষা কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।
উপাচার্য আরও বলেন, ‘শিক্ষক ও কর্মকর্তা নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। একাডেমিক এক্সিলেন্স, লিখিত পরীক্ষা, প্রেজেন্টেশন ও মৌখিক পরীক্ষার চার ধাপের মাধ্যমে মেধাবীদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।’
শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে মেডিকেল সেন্টারের আধুনিকায়ন, ডায়াগনস্টিক সেবা চালু, আবাসিক হলগুলোতে ওয়াশিং মেশিন ও ভেন্ডিং মেশিন স্থাপন এবং ‘গ্রিন ক্যাম্পাস’ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উপাচার্য বলেন, ‘নোবিপ্রবিকে আন্তর্জাতিক মানের একটি গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন করতে পারলে এটি দেশের উচ্চশিক্ষার একটি মডেলে পরিণত হবে।’


