রাজশাহীর তানোরে অসাবধানতাবশত পরিত্যক্ত একটি গভীর নলকূপের পাইপে আটকা পড়েছে দুই বছরের শিশু। আট ঘণ্টায়ও উদ্ধার হয়নি গভীর নলকূপের পাইপে পড়ে আটকে যাওয়া সাজিদ। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাকে জীবিত উদ্ধারে চেষ্টা করছেন।
বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামের ধানখড়ের মাঠে খেলতে খেলতে হঠাৎ ৩০ থেকে ৩৫ ফুট গভীর একটি বোরিং গর্তে পড়ে যায় সে।
৮ ইঞ্চি ব্যাসার্ধের গর্তে পড়ে যাওয়া শিশুটির জন্য মুহূর্তে দিশেহারা হয়ে পড়েন স্থানীয়রা।
এদিন সন্ধ্যা সাড়ে ১০টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শিশুটিকে জীবিত উদ্ধারে চেষ্টা অব্যাহত ছিল।
শিশুটির নাম মো. স্বাধীন। সে তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের কোয়েলহাট গ্রামের মো. রাকিবের ছেলে।
তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুজ্জামান গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, পরিত্যক্ত ওই নলকূপের মালিক তাহের। তিনি একই এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নলকূপটি অকেজো অবস্থায় পড়ে ছিল।
ওসি আরও জানান, ঘটনার পরপর তানোর ফায়ার সার্ভিসের একটি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তারা শিশুটিকে জীবিত উদ্ধারে কাজ করছেন।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গর্তের ভেতরে অক্সিজেন দিচ্ছেন। বিকাল ৪টার দিকেও তারা জানিয়েছেন, শিশুটির সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।
তাদের ধারণা, শিশুটি এখনো জীবিত রয়েছে। উদ্ধার তৎপরতা আরো জোরদার করতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে একটি বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল তানোরে যোগ দিয়েছে।
ওসি বলেন, শিশুটিকে মাটি খুঁড়ে বের করতে হবে। এটি খুব কঠিন কাজ। তারপরও তাকে উদ্ধার করে আনার জন্য ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এবং আমরা সবাই সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
ফায়ার সার্ভিসের রাজশাহীর সহকারী পরিচালক দিদারুল আলম জানান, এখন পর্যন্ত শিশুটি জীবিত আছে বলে মনে হচ্ছে। তাকে অক্ষত উদ্ধারের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।
তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাঈমা খান জানান, ‘বাচ্চাটির গর্তে পড়ে যাওয়ার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। সবাই দোয়া করুন, বাচ্চাটি যেন দ্রুত উদ্ধার হয়ে মায়ের কোলে ফিরতে পারে।’


