বিশ্বকাপের মতো মহামঞ্চে ফুটবলারদের পায়ের জাদুর পাশাপাশি ডাগআউটের মস্তিস্ক তথা কোচদের ভূমিকা থাকে অনন্য। কিন্তু এই গৌরবময় মঞ্চে ব্যর্থতার দায়ভারও সবথেকে বেশি বর্তায় তাদের ওপরেই।
২০২৬ বিশ্বকাপের আসরটি যেন পরিণত হয়েছে কোচদের এক নির্মম বিদায়মঞ্চে। টুর্নামেন্টের পর্দা নামার আগেই একে একে আটজন হাইপ্রোফাইল কোচকে ছাড়তে হয়েছে দলের ডাগআউট।
গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে নকআউটের প্রথম পর্ব–ব্যর্থতার জের ধরে বরখাস্ত, পদত্যাগ কিংবা চুক্তির মেয়াদ শেষের এই দীর্ঘ তালিকা ফুটবল বিশ্বের এক কঠিন ও রূঢ় বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তোলে।
১. সাব্রি লামুশি (তিউনিসিয়া)
প্রথম রাউন্ডে সুইডেনের কাছে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর তিউনিসিয়া তাকে বরখাস্ত করে। তিনি এই বিশ্বকাপের প্রথম চাকরি হারানো কোচ।
২. হং মিউং-বো (দক্ষিণ কোরিয়া)
গ্রুপ পর্ব থেকে দল বিদায় নেওয়ার পর দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়। পাশাপাশি দেশের প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে ‘অযোগ্য’ তকমা পাওয়ার পর পদত্যাগ করেন তিনি।
৩. মিরোস্লাভ কুবেক (চেক প্রজাতন্ত্র)
গ্রুপ ‘এ’ থেকে কোনো জয় ছাড়াই বিশ্বকাপ শেষ করে চেক প্রজাতন্ত্র। এই ব্যর্থতার জেরে কোচের পদ থেকে ইস্তফা দেন কুবেক।
৪. স্টিভ ক্লার্ক (স্কটল্যান্ড)
ব্রাজিলের কাছে ৩-০ গোলে হেরে স্কটল্যান্ড টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার পর কোচের পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।
৫. মার্সেলো বিয়েলসা (উরুগুয়ে)
মাত্র দুটি ড্র নিয়ে উরুগুয়ের জন্য এবারের বিশ্বকাপ ছিল ভীষণ হতাশাজনক। গ্রুপ পর্ব থেকে দল বাদ পড়ার পর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান বিয়েলসা।
৬. রোনাল্ড কোম্যান (নেদারল্যান্ডস)
নকআউটের শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে মরক্কোর কাছে পেনাল্টি শুটআউটে হেরে বিদায় নেয় নেদারল্যান্ডস। এই হারের পর পদত্যাগ করেন ডাচ কোচ কোম্যান।
৭. সেবাস্তিয়ান বেকাসেসে (ইকুয়েডর)
শেষ ৩২-এর ম্যাচে মেক্সিকোর কাছে ২-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় ইকুয়েডর। এই ম্যাচটি শেষ হওয়ার পর পরই তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।
৮. জুলিয়ান নাগেলসম্যান (জার্মানি)
প্যারাগুয়ের কাছে পেনাল্টিতে হেরে জার্মানি বিদায় নেওয়ার পর শুক্রবার কোচের পদ থেকে ইস্তফা দেন নাগেলসম্যান। তার এই বিদায়ের মধ্য দিয়ে তিনি চলতি বিশ্বকাপে চাকরি হারানো অষ্টম কোচ হন।


