চলতি বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ শেষ হতেই বেজে গেল বিদায়ঘণ্টা। আসরের প্রথম ডাগআউট ‘বলি’ হিসেবে বরখাস্ত হলেন তিউনিসিয়া জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ সাবরি লামুশি। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচেই সুইডেনের কাছে ৫–১ গোলের বড় ব্যবধানে বিধ্বস্ত হওয়ার পর এই ফরাসি কোচকে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে তিউনিসিয়ান ফুটবল ফেডারেশন।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো কোচকে টুর্নামেন্ট শুরুর এত দ্রুত সময়ে বরখাস্ত করার ঘটনা বেশ বিরল। তিউনিসিয়া ফুটবল ফেডারেশন তাদের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে এক বিবৃতিতে জানায়, কোচ সাবরি লামুশির সাথে পারস্পরিক চুক্তির ভিত্তিতে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব দেওয়ার জন্য সাবেক কোচ মনধের কেবাইয়েরের সাথে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
সুইডিশ ঝড়ে লণ্ডভণ্ড রক্ষণ
বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে একটি গোলও হজম না করে মূল পর্বে আসা তিউনিসিয়ার শক্তি ছিল তাদের জমাট রক্ষণভাগ। মেক্সিকোর মন্টেরি স্টেডিয়ামে সুইডেনের মুখোমুখি হওয়ার আগে কোচ লামুশিও ভরসা রেখেছিলেন রক্ষণপ্রাচীরের ওপর। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে সুইডিশ স্ট্রাইকার ভিক্টর গাইওকেরেস এবং আলেকজান্ডার ইসাকের ক্ষিপ্র গতির সামনে তিউনিসিয়ার রক্ষণ স্রেফ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। ম্যাচের প্রথমার্ধেই ২–১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়া তিউনিসিয়া দ্বিতীয়ার্ধে আরও ৩টি গোল হজম করে। সুইডেনের হয়ে জোড়া গোল করেন তিউনিসিয়ান বংশোদ্ভূত সুইডিশ মিডফিল্ডার ইয়াসিন আয়াহরি।
ম্যাচ শেষে হতাশ কোচ লামুশি বলেন: ‘আমরা মাঠে ধারণার চেয়েও বেশি ভুল করেছি। এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং কঠিন এক পরাজয়। প্রতিপক্ষের বিশ্বমানের ফরোয়ার্ডদের সামনে আমরা যে ভুলগুলো করেছি, সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানো অসম্ভব ছিল।’
ড্রেসিংরুমের অসন্তোষ ও সংক্ষিপ্ত অধ্যায়
ভেতরের খবর অনুযায়ী, শুধু সুইডেনের কাছে এই বড় পরাজয়ই লামুশির চাকরি যাওয়ার একমাত্র কারণ নয়। গত জানুয়ারি মাসে সাবেক কোচ সামি ট্রাবেলসি বরখাস্ত হওয়ার পর দায়িত্ব নিয়েছিলেন ৫৪ বছর বয়সী এই ফরাসি কোচ। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ফুটবলারদের সাথে ড্রেসিংরুমে তাঁর সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিল বলে গুঞ্জন রয়েছে। তাছাড়া বিশ্বকাপ শুরুর আগে প্রীতি ম্যাচে বেলজিয়ামের কাছে ৫–০ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর থেকেই তাঁর সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মাত্র ৫টি ম্যাচ তিউনিসিয়ার ডাগআউটে দাঁড়াতে পেরেছেন তিনি।
সামনে কঠিন সমীকরণ
গ্রুপ ‘এফ’-এ থাকা তিউনিসিয়ার জন্য নকআউট পর্বের রাস্তা এখন অত্যন্ত কঠিন। আগামী ২০ জুন নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে তারা শক্তিশালী জাপানের মুখোমুখি হবে। এরপর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডস। টুর্নামেন্টে টিকে থাকার আশা বাঁচিয়ে রাখতে অন্তর্বর্তীকালীন কোচের অধীনে দ্রুতই দলকে গুছিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ এখন উত্তর আফ্রিকার এই দেশটির সামনে।


