মঙ্গলবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠান শেষে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ না খেলা নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান,সরকারি সিদ্ধান্ত নয়, ক্রিকেটার ও বিসিবির সিদ্ধান্তেই নাকি বিশ্বকাপ খেলতে যায়নি বাংলাদেশ। এরপর শুরু হয় সমালোচনা, অনেকেই একে বলছিলেন ‘ইউ টার্ন’। কারণ সরকারি সিদ্ধান্ত ছাপিয়ে সিদ্ধান্তের দায় যাচ্ছিল বিসিবি ও ক্রিকেটারদের দিকে। সেসবের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বুধবার রাত ৯টা ৫৮ মিনিটে নিজের পেইজে এর ব্যাখা দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার রাতে বিশ্বকাপ না খেলায় কোনো আক্ষেপ আছে কিনা, এই প্রশ্নের জবাবে আসিফ নজরুল বলেন, ‘কোনো রিগ্রেট? প্রশ্নই আসে না। আমাদের কী সিদ্ধান্ত, সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেট খেলোয়াড়রা, ক্রিকেট বোর্ড। তারা নিজেরা স্যাক্রিফাইস করে, দেশের ক্রিকেটারদের নিরাপত্তার জন্য, দেশের মানুষের নিরাপত্তার জন্য, বাংলাদেশের মর্যাদার প্রশ্নে যে ভূমিকা রেখেছে, আমার মনে হয়, এটা অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’
অথচ গেল ২২ জানুয়ারি ক্রিকেটারদের সাথে জরুরি বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে আসিফ নজরুল বলেন, ‘আপনাদেরকে আমি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেই, সিকিউরিটি রিস্কের কথা বিবেচনা করে ভারতে বিশ্বকাপ না খেলা, এটা আমাদের সরকারের সিদ্ধান্ত। কোনো একটা দেশের মানুষ অন্য একটা দেশে গেলে সিকিউরিটি রিস্ক আছে কি না, সেটা সরকার বিবেচনা করে দেখে। এটা অন্য কারও বিবেচনার স্কোপ নেই।’
দুটি বক্তব্য পর্যালোচনার পর দেখা যাচ্ছে, সেসব যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা নিজের অবস্থানের সাথেই সাংঘর্ষিক। দিনভর তুমুল সমালোচনার পর অবশ্য এর ব্যাখা দিয়েছেন আসিফ নজরুল। পাঠকদের জন্য তার দেয়া পোস্ট হুবহু তুলে ধরা হলো-
“গতকাল একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সাথে আমার বিভিন্ন প্রসঙ্গে আলাপ হয়। এক পর্যায়ে আমাকে প্রশ্ন করা হয়, বিশ্বকাপে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো আক্ষেপ আছে কি না। আমি বলেছি, আক্ষেপের প্রশ্নই আসে না। এরপর আমি যা বোঝাতে চেয়েছি, তা আমার কথার প্রেক্ষিত ও অন্তর্গত বার্তাকে উপলব্ধি না করে উপস্থাপিত হওয়ার কারণে কিছুটা বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
আমি জানুয়ারি মাসের শুরু থেকে বিভিন্ন বক্তব্যে স্পষ্টভাবে জানাই যে, নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে ভারতে বিশ্বকাপ না খেলাটা সরকারের সিদ্ধান্ত। আমি অবশ্যই এই বক্তব্যে অটল আছি। গতকাল বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্ত কার নেওয়া- এটি কোনো আলোচ্য বিষয় ছিল না, এ-নিয়ে কোনো প্রশ্নও করা হয়নি।
গতকালের অনুষ্ঠানটি ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড কর্তৃক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে খেলার মাঠের উন্নয়নের জন্য ২ কোটি টাকা চেক প্রদানের অনুষ্ঠান। ক্রিকেটের এরকম স্পর্শকাতর সময়ে আমি তাদের এই বদান্যতায় কিছুটা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ি। সেসময় সাংবাদিকরা যখন জিজ্ঞেস করেন, বিশ্বকাপ না খেলা নিয়ে কোনো দুঃখ আছে কি না, তখন আমার মনে হয়েছে, এখানে আমার বা সরকারের তো দুঃখের বিষয়টা মূল বিষয় নয়। মূল বিষয় হচ্ছে- ক্রিকেট বোর্ড ও খেলোয়াড়দের আত্মত্যাগ।
বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত অবশ্যই সরকার নিয়েছে, কিন্তু এটিও তো সত্যি যে, এই সিদ্ধান্ত ক্রিকেট বোর্ড ও খেলোয়াড়রা বিনা প্রতিবাদে মেনে নিয়েছে। আর্থিক ক্ষতি, না খেলার বঞ্চনা এবং আরো শাস্তির ভয় সত্ত্বেও তারা এটা মেনে নিয়েছে। এই হিসেবে দেশের মানুষের নিরাপত্তা ও দেশের মর্যাদার স্বার্থে বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্তের কৃতিত্বের মূল দাবিদার তারাই।
সাংবাদিক সম্মেলনে অপ্রস্তুত আলাপে বিষয়টি ভালো করে না বুঝিয়ে বলতে পারার ব্যর্থতা এখানে স্বীকার করে নিচ্ছি। আবারো দৃঢ়ভাবে জানিয়ে দিচ্ছি, বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে। কিন্তু সরকারের এই সিদ্ধান্ত বোর্ড ও ক্রিকেটাররা মেনে নিয়েছে। না হলে এই সিদ্ধান্তে অটুট থাকাটা হয়তো এতোটা সহজ হতো না।”


