বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম বিরোধী দল বাজেট আলোচনায় অত্যন্ত ইতিবাচক ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর এই প্রথম বিরোধী দল বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় আগাম অংশগ্রহণ করেছে। বিরোধী দলকে মোট ২৬ শতাংশ সময় বরাদ্দ দেওয়া হলেও আমরা সময় বাড়িয়ে দিয়েছি এবং তারা প্রায় ৩১ শতাংশ সময় বক্তব্য রাখার সুযোগ পেয়েছে।’
বর্তমান সরকারের প্রণীত নয় লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট দেশের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও ভাগ্য পরিবর্তনের এক অনন্য দলিল মন্তব্য করে চিফ হুইপ বলেন, স্বাধীনতার পর এমন জনকল্যাণমুখী ও জীবনঘনিষ্ঠ বাজেট আর কখনো প্রণীত হয়নি। প্রধানমন্ত্রী জনপ্রিয় মেগা প্রকল্পের পরিবর্তে জীবনমুখী পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প নিয়েছেন।’
বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় সংসদের এলডি হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।
মো. নূরুল ইসলাম বলেন, এ বাজেট জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখার লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রণয়ন করা হয়েছে।
বাজেটের প্রকৃতি ও উদ্দেশ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘নয় লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এটা মানুষের বাজেট, জনবান্ধব বাজেট এবং জনগণের কল্যাণ ও তাদের বাঁচিয়ে রাখার বাজেট।’
‘আমরা উত্তরাধিকারসূত্রে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছি । একদিনে ডলারের দাম সাত টাকা বেড়েছে, কয়েকটি ব্যাংক মারাত্মক সংকটে পড়েছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংককে হাজার হাজার কোটি টাকা সহায়তা দিতে হয়েছে। অতীতের অনিয়ম, আর্থিক বিশৃঙ্খলা ও মেগা প্রকল্পের নামে দুর্নীতির প্রভাব এখনো অর্থনীতিতে রয়ে গেছে’, যোগ করেন তিনি।
এ কারণেই সরকার কেবল অবকাঠামো নির্মাণ নয়, দীর্ঘমেয়াদি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জোর দেন চিফ হুইপ। তিনি বলেন, ‘পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্পের লক্ষ্য শুষ্ক মৌসুমে কৃষিতে পানির নিশ্চয়তা এবং দেশের পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন। এগুলো শুধু প্রদর্শনমূলক প্রকল্প নয়, মানুষের প্রয়োজন পূরণের প্রকল্প।’
এ ছাড়া ২৫ কোটি গাছ রোপণ, ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন, কৃষক কার্ড, পরিবার কার্ড, নারীদের জন্য বিশেষ কার্ড, প্রবাসী সেবা এবং স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলেও জানান মো. নূরুল ইসলাম। এসব উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো- কোনো মানুষ যেন না খেয়ে না থাকে, মানুষের জীবনমান উন্নত হয় এবং তারা স্বাবলম্বী হতে পারে।
সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা ও বিরোধী দলের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে চীফ হুইপ বলেন, ‘বিরোধী দলীয় নেতার অনুরোধে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে সাইকেলের ওপর প্রস্তাবিত কর প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন, যা সরকার ও বিরোধী দলের সম্মিলিতভাবে দেশ গড়ার আন্তরিক মানসিকতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।’
সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় সহনীয় রাখতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে নূরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের ৬৩টি আইটেমে কোনো কর বৃদ্ধি করা হয়নি। এ ছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় প্রায় ৫০ লাখ ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে মায়েদের আর্থিক স্বচ্ছলতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
জুলাই আন্দোলনকারীদের সাহস, ত্যাগ ও দেশপ্রেমের প্রশংসা করে চীফ হুইপ বলেন, ‘এ দেশের তরুণ সমাজ অত্যন্ত বড়, অত্যন্ত সাহসী এবং অত্যন্ত দেশপ্রেমী। আমি জুলাই যোদ্ধাদের মধ্যে যারা নিহত হয়েছেন তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং যারা আহত হয়েছেন তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।’
সংবিধান সংশোধন প্রসঙ্গে চীফ হুইপ বলেন, ‘সংবিধান সংশোধনের কোন বিকল্প নেই। যে কোন ধরণের সংস্কার আনতে হলে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। আশা করি আমরা সবাই মিলে এই সংশোধনী আনতে পারব।’


