বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন ডিজিটালাইজড করতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত এক রিটের শুনানি শেষে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি মোহাম্মদ আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেয়।
২০২১ সালে ৪ মার্চ হাইকোর্টে রিটটি করেছিলেন রাকিব হাসান নামে এক ব্যক্তি।
রাকিব জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার নাসির হোসেনের স্ত্রী তামিমা সুলতানার প্রথম স্বামী। তিনি বৈবাহিক প্রতারণার শিকার হয়েছেন দাবি করে হাইকোর্টে এই রিট করেন।
রাকিবের দাবি ছিল, তামিমা তার সঙ্গে আইনগতভাবে বিচ্ছেদ না করেই নাসিরকে বিয়ে করেছেন; যা প্রতারণা। তাই ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণার হাত থেকে বাঁচতে বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন প্রক্রিয়া ডিজিটাল করার নির্দেশনা চেয়ে তিনি রিট করেন।
সেই রিটের পরিপ্রেক্ষিতেই হাইকোর্ট বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন ডিজিটালাইজেশন করতে সরকারকে নির্দেশ দিল।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান, সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট তানজিলা রহমান।
এর আগে ২০২১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি রাকিব হাসান, সোহাগ হোসেন, কামরুল হাসান ও একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। নোটিশ পাওয়ার তিন দিনের মধ্যে বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন ডিজিটাল করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়।
নোটিশে বলা হয়, বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের আইনগত বিধান থাকলেও তা ডিজিটাল না করার ফলে অসংখ্য প্রতারণার ঘটনা ঘটছে। এছাড়া বিয়ে গোপন রেখে তালাক না দিয়ে অন্যত্র বিয়ে করার ঘটনা ঘটতে দেখা যাচ্ছে। এর ফলে সন্তানের পিতার পরিচয় নিয়েও জটিলতা দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি বিবাহ সংক্রান্ত অপরাধ বেড়ে অসংখ্য মামলার জন্ম নিচ্ছে।
তাই বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন ডিজিটাল হওয়া একান্ত আবশ্যক। বিয়ে ও তালাক ডিজিটালাইজেশন করলে তার জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর দিয়ে সার্চ করলেই সব তথ্য বেরিয়ে আসবে। এতে প্রতারণার হাত থেকে অসংখ্য মানুষ রক্ষা পাবে।
নোটিশ দেওয়ার পরও বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন ডিজিটাল করতে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় নোটিশদাতারা ২০২১ সালের মার্চে রিট করেন।
রিটে বলা হয়, প্রতারণা ঠেকানো ও পারিবারিক সম্মান রক্ষায় বিয়ে ও তালাকের নিবন্ধন প্রক্রিয়া ডিজিটালাইজড করা প্রয়োজন।
শুনানি নিয়ে ওই বছরের ২২ মার্চ হাইকোর্ট রুল জারি করে। রুলে বিয়ে ও তালাকের ঘটনা ডিজিটালি নিবন্ধনের জন্য কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইট কেন তৈরি করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।
গত ২০ নভেম্বর বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন ডিজিটালাইজেশন করার বিষয়ে জারি করা রুলের শুনানি শেষ হয়। একই সঙ্গে রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করে।


