ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) নেতা অজিত পাওয়ার নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে মুম্বাই থেকে বারামতি যাওয়ার পথে বিমান দুর্ঘটনায় তিনি মারা যান। দুর্ঘটনায় বিমানের পাইলট ও অজিত পাওয়ারের নিরাপত্তারক্ষীসহ আরও চারজন নিহত হয়েছেন।
দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়, সকাল ৮টার দিকে মুম্বাই থেকে উড্ডয়ন করা একটি ছোট বিমান ৪৫ মিনিট পর বারামতি বিমানবন্দরে অবতরণ করার সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ওই বিমানে করে অজিত পাওয়ার স্থানীয় নির্বাচনের আগে চারটি গুরুত্বপূর্ণ জনসভায় যোগ দিতে বারামতি যাচ্ছিলেন।
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে প্রকাশিত ভিডিওতে আগুন, ধোঁয়া, বিমানের পুড়ে যাওয়া ধ্বংসাবশেষ এবং আহতদের কাছাকাছি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য ছুটে চলা অ্যাম্বুলেন্স দেখা যায়।
লিয়ারজেট ৪৫ মডেলের বিমানটি ভিএসআর নামে একটি সংস্থা পরিচালনা করছিল। এর আগে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে একই মডেলের একটি বিমান মুম্বাইয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল।
ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল অ্যাভিয়েশন জানিয়েছে, বিমানে থাকা পাঁচজন যাত্রীই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। তবে এখনো পর্যন্ত এনসিপি, পাওয়ারের পরিবার বা মহারাষ্ট্র সরকার এই দুর্ঘটনা নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।
অজিত পাওয়ার ছিলেন একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিক ও এনসিপি প্রতিষ্ঠাতা শরদ পাওয়ারের ভাইয়ের ছেলে। তিনি লোকসভার সংসদ সদস্য সুপ্রিয়া সুলের চাচাতো ভাই।
২০২৩ সালে অজিত পাওয়ার এনসিপির ভেতরে বিদ্রোহ ঘোষণা করলে দলটি দুইভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। দলের একভাগ নেতাকর্মীরা অজিত পাওয়ারকে সমর্থন দেন এবং আরেকভাগ তার চাচা শরদ পাওয়ারের নেতৃত্ব মেনে নেন। পরে অজিত পাওয়ার এনডিএ জোটে যোগ দিয়ে উপমুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন।
সম্প্রতি এনসিপির পুনর্মিলনের আলোচনা চলছিল এবং বিভক্ত দুই গোষ্ঠী একইদলের অধীনে পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় মিউনিসিপাল কর্পোরেশন নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল।


