বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ (সিইও) চারজনের রিমান্ড শুনানির দিন আগামী মঙ্গলবার ধার্য করেছে আদালত।
রোববার ১১ বছরের শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের মামলায় বিমানের এমডি শফিকুর রহমান ওরফে সাফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বিথীসহ চারজনের বিরুদ্ধে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে পুলিশ।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক রোবেল মিয়া এই আবেদন করেন।
পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান আসামিদের উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেন। এই মামলায় ভুক্তভোগী গৃহকর্মী আদালতে নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে জবানবন্দি দেন।
এর আগে, এই মামলায় গ্রেপ্তারের পর গত ২ ফেব্রুয়ারি বিমানের এমডি ও তার স্ত্রী বিথীসহ চারজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কারাগারে যাওয়া অন্য আসামিরা হলেন, শফিকুরের বাসার আরও দুই গৃহকর্মী রুপালী খাতুন এবং মোছা. সুফিয়া বেগম।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, উত্তরা ৯ নং সেক্টরের শফিকুর রহমানের বাসার নিরাপত্তাকর্মী ওই বাসায় বাচ্চা দেখাশোনার জন্য ছোট মেয়ে খোঁজার কথা ভুক্তভোগীর বাবা জাহাঙ্গীর গোলাম মোস্তফাকে জানান।
শফিকুরের পরিবার জানায়, যাকে কাজে রাখা হবে তার বিয়েসহ যাবতীয় খরচ বহন করবে তারা। পরে তাদের সঙ্গে দেখা করে, তাদের প্রস্তাবে সম্মত হয়ে গত বছরের জুন মাসে মোহনাকে ওই বাসায় কাজে দেন মোস্তফা।
সর্বশেষ গত বছরের ২ নভেম্বর ওই বাসায় মোহনাকে সুস্থ অবস্থায় দেখে আসেন মোস্তফা। তবে এরপর আর মোহনাকে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেননি আসামিরা।
গত ৩১ জানুয়ারি বিথী মোস্তফাকে ফোন করে জানান, মোহনা অসুস্থ। তাকে নিয়ে যেতে। পরে মোহনাকে আনতে যান তিনি। সন্ধ্যা ৭টার দিকে গোলাম মোস্তফার কাছে মোহনাকে বুঝিয়ে দেন সাথী। তখন মোস্তফা দেখতে পান, মোহনার দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্নস্থান গুরুতর জখম।
মোহনা ভালোভাবে কথাও বলতে পারে না। সাথীকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে সদুত্তর দিতে পারেন নি তিনি। পরে মোস্তফা মোহনাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান।
পরে জিজ্ঞাসাবাদে মোহনা জানায়, ২ নভেম্বর মোস্তফা তার সঙ্গে দেখা করে যাওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে কারণে-অকারণে শফিকুর রহমান এবং বিথীসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা তাকে মারধরসহ বিভিন্ন শারীরিক নির্যাতন করে।
এ সময় খুন্তি আগুনে গরম করে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছেঁকা দিয়ে গুরুতর জখম করে। এ ঘটনায় মেয়েটির বাবা গোলাম মোস্তফা বাদী হয়ে মামলা করেন।


