শিশুদের অপুষ্টি দূরীকরণ ও অন্ধত্ব প্রতিরোধে দেশব্যাপী শুরু হয়েছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন।
রোববার সকাল থেকে একযোগে দেশের বিভিন্ন জেলায় ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের এই ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর—
নোয়াখালী: নোয়াখালীতে শুরু হয়েছে শিশুদের জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন।
সকালে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে শিশুদের ক্যাপসুল খাইয়ে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।
সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার মূল ভূখণ্ডসহ দুর্গম চরাঞ্চলের মোট ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৬৪০ শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে। ৯টি উপজেলার ৯১টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভায় ২ হাজার ২৭৭টি টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দুর্গম চরাঞ্চলের শিশুদের জন্য বিশেষ টিম কাজ করছে।
ঝালকাঠি: ঝালকাঠিতে সাড়ম্বরে শুরু হয়েছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন।
সকালে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন। এতে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ও সিভিল সার্জন মো. হুমায়ুন কবিরসহ স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, ক্যাম্পেইনের আওতায় জেলায় মোট ৮২ হাজার ৫০০ শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এর মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ১০ হাজার ১১ শিশুকে নীল রঙের ও ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৭২ হাজার ৪৯০ শিশুকে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে।
টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়েছে।
সকাল ৯টায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে শিশুদের ক্যাপসুল খাইয়ে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক শরীফা হক।
সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মো. মাহবুবুল আলম জানান, জেলায় ৫ লাখ ২৪ হাজার ১৮৮ শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে। এর মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ৫৮ হাজার ৫৩২ শিশুকে নীল রঙের ও ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৪ লাখ ৬৫ হাজার ৬৫৬ শিশুকে লাল রঙের ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক বলেন, ‘ভিটামিন ‘এ’ শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, রাতকানা প্রতিরোধ ও স্বাভাবিক বিকাশে ভূমিকা রাখে।’
জয়পুরহাট: জয়পুরহাটে সকাল ৮টা থেকে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে।
জয়পুরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল গেটে শিশুকে ক্যাপসুল খাইয়ে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক মাসুদ রানা প্রধান। এ সময় সিভিল সার্জন ডা. আল মামুন ও হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সর্দার রাশেদ মোবারক জুয়েল উপস্থিত ছিলেন।
জেলায় মোট ১ লাখ ৩৮ হাজার ২৩৩ শিশুকে এই ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এর মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ১২ হাজার ৭৫৪ শিশুকে নীল রঙের ও ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ১ লাখ ২৫ হাজার ৪৭৯ শিশুকে লাল রঙের ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে। ৫টি পৌরসভা ও ৩২টি ইউনিয়নের ৮২৫টি কেন্দ্রে এই কার্যক্রম চলছে।
খুলনা: খুলনায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়েছে।
সকালে খালিশপুর কলেজিয়েট গার্লস স্কুল অডিটোরিয়ামে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু প্রধান অতিথি হিসেবে এর উদ্বোধন করেন।
কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিভিল সার্জনসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মহানগরীর ৩১টি ওয়ার্ডের ৭১০টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৮ হাজার ৯৫২ শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ৬-১১ মাস বয়সী ১২ হাজার ৩৩৭ জন এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী ৯৬ হাজার ৬৫৫ শিশু রয়েছে। ১ হাজার ৪২০ জন স্বেচ্ছাসেবক কর্মসূচি সফল করতে কাজ করছেন।
ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে।
সকালে সিটি কর্পোরেশনের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এই কর্মসূচির সূচনা হয়।
ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. ফয়সল আহমেদ জানান, ময়মনসিংহ জেলা ও সিটি কর্পোরেশন এলাকার মোট ৩ হাজার ৮৮২টি কেন্দ্রে শিশুদের ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে। ক্যাম্পেইনে ৬-১১ মাস বয়সী ১ লাখ ২ হাজার ৩০৬ শিশুকে নীল রঙের এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী ৮ লাখ ৯৬ হাজার ৯৪৭ শিশুকে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ফরিদপুর: ফরিদপুরের সদরপুরে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়েছে।
সকালে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরীফ শাওন এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. মমিনুর রহমান সরকার সঙ্গে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. গোলাম রাব্বানী উপস্থিত ছিলেন।
এমটিইপিআই মো. শহিদুল ইসলাম জানান, উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ২১৭টি কেন্দ্রে শিশুদের ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে। ৬-১১ মাস বয়সী শিশুদের নীল রঙের সঙ্গে ১২-৫৯ মাস বয়সী শিশুদের লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে।
বরিশাল: বরিশালে শুরু হয়েছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন।
বেলা সাড়ে ১১টায় নগরীর পলাশপুর দলিল উদ্দিন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের (বিসিসি) প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন এর উদ্বোধন করেন। সকাল থেকেই কেন্দ্রগুলোতে অভিভাবকদের ভিড় দেখা যায়।
বিসিসি এলাকায় ২২০টি কেন্দ্রে ৫৮ হাজার ৭১০ শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ৬-১১ মাস বয়সী ৮ হাজার ৯৫০ জন সঙ্গে ১২-৫৯ মাস বয়সী ৪৯ হাজার ৭৬০ শিশু রয়েছে। ৫০০ জন কর্মী এই কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।
এছাড়া বরিশালের ১০ উপজেলায় ২ হাজার ৯৭টি কেন্দ্রে ৩ লাখ ২ হাজার ৮৪৬ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়েছে।
সকালে জেলা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ সফিউল আলম এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এ সময় জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী ও সিভিল সার্জন ডা. একেএম শাহাব উদ্দীনসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জেলায় মোট ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬১৭ শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ৬-১১ মাস বয়সী ২৮ হাজার ৭০৮ শিশুকে নীল রঙের সঙ্গে ১২-৫৯ মাস বয়সী ২ লাখ ৫ হাজার ৯০৯ শিশুকে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে।
কর্মসূচি বাস্তবায়নে ১ হাজার ২০৪টি কেন্দ্রে ২ হাজার ৪১২ জন স্বেচ্ছাসেবকসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা দায়িত্ব পালন করছেন।


