জাতীয় সংসদে বেসরকারি খাতে পরিচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর চুক্তি পর্যালোচনার ঘোষণা দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান।
বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য নিপুন রায় চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বিদ্যুৎ খাতের চুক্তিগুলোর কার্যকারিতা, অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা এবং বর্তমান বাস্তবতার নিরিখে এই মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
সরকারি নীতি অনুযায়ী ইতোমধ্যে দেশের সব কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র অবসরে পাঠানো হয়েছে, যার ফলে ব্যয়বহুল বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে।
সরকার এখন দীর্ঘমেয়াদে সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
সরকারি দলের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, কৃষি উৎপাদন ব্যয় কমানো ও ডিজেলের ওপর নির্ভরতা হ্রাসের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, পল্লী উন্নয়ন একাডেমি এবং বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে দেশজুড়ে সৌরচালিত সেচ ব্যবস্থা বা সোলার ইরিগেশন স্থাপন করা হয়েছে।
এদিকে, বিরোধী দলের সংসদ সদস্য মুহাম্মাদ আব্দুল খালেকের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী দেশের গ্যাস ও জ্বালানি তেলের হালনাগাদ মজুতের তথ্য তুলে ধরেন।
তিনি জানান, দেশের আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রগুলোর মজুত থেকে সিংহভাগ গ্যাস ইতোমধ্যে উত্তোলন করা হয়েছে এবং বর্তমানে নির্দিষ্ট পরিমাণ উত্তোলনযোগ্য প্রাকৃতিক গ্যাস ও জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে।
জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী জানান, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছিল। মে মাস থেকে দাম কিছুটা কমলেও তা এখনো ব্রেক-ইভেন পর্যায়ের ওপরে রয়েছে।
ফলে দেশের বাজারে আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় কম দামে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে গিয়ে বাংলাদেশ পেট্রলিয়াম করপোরেশনকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ লোকসান গুনতে হচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমে সহনশীল পর্যায়ে এলে দেশের বাজারেও তা সমন্বয় করা হবে বলে মন্ত্রী আশ্বস্ত করেন।


