শহীদ আবরার ফাহাদকে স্মরণ করে ‘আধিপত্যবাদবিরোধী দিবস’ উপলক্ষে সেমিনার ও চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। তবে অনুষ্ঠানের আমন্ত্রিত অতিথি তালিকাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের মধ্যে বিতর্ক এবং অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার আর্টস অডিটোরিয়ামে ‘ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব: স্মরণে শহীদ আবরার ফাহাদ’ শীর্ষক সেমিনার এবং স্মরণে মননে শহীদ আবরার ফাহাদ’ চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানটিতে সভাপতির বক্তব্যে সাদিক কায়েম বলেন, ‘শহীদ আবরার ফাহাদ জীবিত আবরারের চেয়ে শক্তিশালী; তিনি দেখিয়েছেন আধিপত্য ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ন্যায়ের জন্য লড়াই করতে। তিনি আমাদের প্রেরণার উৎস।’
তবে সমালোচকরা অভিযোগ করেছেন, আবরার ফাহাদ হত্যার পর ন্যায্য বিচার ও আন্দোলনে যুক্ত শিক্ষার্থী এবং সংগঠনগুলোকে বাদ দিয়ে নবনির্বাচিত ডাকসু নেতৃত্ব তাদের মতাদর্শগতভাবে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের প্রাধান্য দিয়ে আলোচক হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ বছর পর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেল ২৮টি পদের মধ্যে ২৩টিতে বিজয়ী হয়েছে। নির্বাচনী ফলাফলের প্রভাব ডাকসুর সাম্প্রতিক কার্যক্রমে প্রতিফলিত হচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক বলেন, ‘ডাকসু আবরার ফাহাদকে স্মরণ করে একটি এককেন্দ্রিক অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে। যেখানে এটি সর্বজনীন ও সবার অংশগ্রহণের একটি মঞ্চ হতে পারত, সেখানে তারা নির্দিষ্ট একটি সংগঠনকে প্রাধান্য দিয়েছে।’
তিনি টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘ডাকসুকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রভাবাধীন সংগঠনে রূপান্তরের এই প্রচেষ্টা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অশনি সংকেত।’
বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের বলেন, ’ইসলামী ছাত্রশিবির ডাকসুকে তাদের আরেকটি অঙ্গসংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে।’
তিনি বলেন, ‘ডাকসু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিষ্ঠান এবং এটি সকলের অংশগ্রহণের জন্য উন্মুক্ত থাকা উচিত।’
টাইমস অব বাংলাদেশকে তিনি আরও বলেন, ‘কিছুদিন আগে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী আমির হামজা মিথ্যাচার করলে ডাকসু কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। অথচ বিএনপির ফজলুর রহমানের বক্তব্যে তারা দ্রুত বিবৃতি দিয়েছে। ডাকসু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম, কোনো দলীয় প্ল্যাটফর্ম নয়। অতীতের ছাত্রলীগ আমলে ডাকসুর একপ্রকার দলীয়করণ দেখা গিয়েছিল; তাই বর্তমান প্রতিনিধিদের এ ধরনের আচরণ উদ্বেগজনক।’
বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক নূজিয়া হাসিন বলেন, ‘ডাকসু বা শিবিরের আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি মাহমুদুর রহমান। এখানে ভারতীয় আধিপত্যবাদ নিয়ে আলোচনা হয়।’
অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন শহীদ আবরার ফাহাদের পিতা মো. বরকত উল্লাহ। ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদী, আপ বাংলাদেশের প্রধান সমন্বয়ক রাফে সালমান রেজাউল করিম রনি, শহীদ আবরারের ভাই আবরার ফাইয়াজ, মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আব্দুর রবসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকায় জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেনের নাম থাকলেও তিনি অনুষ্ঠানে যোগ দেননি।


