দিল্লির পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠিত আইনি প্রক্রিয়া না মেনে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বারবার পুশইনের প্রচেষ্টা দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। একইসঙ্গে পুশইন ঠেকাতে ভারতকে বারবার প্রতিবাদপত্র দেওয়া হয়েছে।
উভয় সরকারের আলোচিত প্যারাডাইম শিফট-এর জন্য এই বিষয়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বিশ্বাস পুনরুদ্ধার এবং সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার জন্য বিদ্যমান প্রক্রিয়া ও কূটনৈতিক নিয়ম মেনে চলা অপরিহার্য।
সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করে সীমান্ত দিয়ে মানুষকে পুশইন করা গ্রহণযোগ্য নয়।’
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর এই বিষয়ের প্রভাব নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, সীমান্ত ঘটনা এবং সামগ্রিক কূটনৈতিক সম্পর্ক ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।
ভারত সরকার যদি এই সীমান্ত সমস্যাগুলোকে গুরুত্ব সহকারে নেয় এবং সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে, তবে সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়া অনেক সহজ হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
দিল্লিতে পাঠানো হয়েছে প্রতিবাদপত্র
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে একাধিকবার ভারতের কাছে এই বিষয়টি উত্থাপন করেছে এবং এ ধরনের ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ১২ থেকে ১৩টি আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদপত্র পাঠিয়েছে।
তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠিত যাচাইকরণ এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ব্যবহার না করে কোনো ব্যক্তিকে ফেরত পাঠানোর যেকোনো প্রচেষ্টা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষতি করার ঝুঁকি তৈরি করে। ভারত যদি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ব্যবহার না করে এই পুশইন প্রক্রিয়া চালিয়ে যায়, তবে তা সম্পর্কের জন্য ভালো হবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, দুই দেশ যদি সত্যিই একটি প্যারাডাইম শিফট চায় এবং সম্পর্ককে ‘নতুন উচ্চতায়’ নিয়ে যেতে চায়, তবে তাদের অনানুষ্ঠানিক বা জোরপূর্বক পদ্ধতির পরিবর্তে বিদ্যমান কূটনৈতিক চ্যানেল এবং আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করতে হবে।
প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার একটি মূল উপাদান হলো কোনো ব্যক্তিকে ফেরত পাঠানোর আগে তার জাতীয়তা যাচাই করা। নাগরিকত্ব যাচাইকরণ প্রত্যাবাসনের একটি অপরিহার্য পদক্ষেপ বলে তিনি জানান।
প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সফল সহযোগিতার উদাহরণ হিসেবে শামা ওবায়েদ চেন্নাই থেকে সম্প্রতি ৩৪ জন বাংলাদেশি নাগরিকের প্রত্যাবর্তনের কথা উল্লেখ করেন। আটকে পড়ার পর তাদের সড়কপথে আইনগতভাবে প্রত্যাবাসন করা হয়েছিল, যা প্রমাণ করে যে উভয় পক্ষ অনুসরণ করলে বিদ্যমান প্রক্রিয়াটি কার্যকর হয়।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, অননুমোদিত প্রবেশ রোধ করতে এবং সম্মত কাঠামোর বাইরে সীমান্তে যেকোনো পুশইনের প্রচেষ্টা প্রতিহত করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সাম্প্রতিক পুশইন ঘটনাগুলো নিয়ে ঢাকায় ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যে তার এই মন্তব্য এলো, যা কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকদের মতে এমন একটি সময়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য অস্বস্তি হিসেবে দেখা দিয়েছে যখন উভয় দেশই কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়াতে চাইছে।


