সীমান্ত আইন না মেনে ‘বাংলাদেশিদের’ পুশ ইনে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) অপচেষ্টা রুখে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান বুধবার এ হুঁশিইয়ারি দিয়ে বলেন, ‘গভীর রাতেও সীমান্ত এলাকায় আমাদের টহল চলছে।’
এদিকে বিএসএফের পুশ ইন অপতৎপরতা রুখে দিতে মঙ্গলবার গভীর রাতেও বিজিবি সদস্যরা সাতক্ষীরা সীমান্তে টহল জোরদার করেন। বিএসএফকে হুঁশিয়ারির পাশাপাশি সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে রাতভর মাইকিং করেন তারা।
লে. কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান বলেন, ‘বিএসএফের পুশ ইন চেষ্টা নিয়ে সীমান্তে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। বিজিবি সদস্যদের কঠোর নজরদারি রয়েছে। গভীর রাতেও আমারা সতর্ক রয়েছি। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে আমাদের বিজিবি সদস্যরা প্রস্তুত।’
‘আমাদের কঠোর অবস্থানের কারণে বিএসএফ পুশ ইন করতে না পারলেও সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী মানুষের মধ্যে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে’ বলেও জানান তিনি।
সীমান্তে নজরদারি জোরদারের পাশাপাশি অতিরিক্ত ফোর্স এনে টহল বাড়ানো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিএসএফের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে কোনো রকম পুশ ইনের চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করা হবে।’
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার বাদুড়িয়া থানার অন্তর্গত হাকিমপুর সীমান্তে বেশকিছু কথিত বাংলাদেশিদের জড়ো করা হয়েছে। তাদের ভারতীয় পুলিশের মাধ্যমে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশে পুশ ইনের জন্য।
ভারতীয় গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, তারা বাংলাদেশি এবং বাংলাদেশে তাদের স্থায়ী বাড়ি রয়েছে। তারা কেউ ছয় মাস, কেউ ছয় বছর, আবার কেউ ২০ বছর ধরে ভারতে কাজ করছে।
মূলত পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তন ও বিজেপি নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর ইসলাম ধর্মের অনুসারীরা নির্যাতনের ভয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে বলে জানা গেছে।


