ত্রয়োদশ সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী মাধবী মার্মার প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল আবেদন করা হয়েছে। অন্যদিকে, প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার আবেদন করেছেন জামায়াতে ইসলামী জোটের প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী মনিরা শারমিন।
রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রোববার নির্বাচন কমিশনে আবেদন দুটি জমা পড়ে। সোমবার ও মঙ্গলবার আপিলের শুনানি করবে ইসি।
সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০টি আসনের ৪৯ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। বৈধ প্রার্থীর মধ্যে বিএনপি জোটের ৩৬ জন, জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের ১২ জন ও স্বতন্ত্র জোটের একজন রয়েছেন।
সরকারি চাকরি ছাড়ার পর তিন বছর পার না হওয়ায় জামায়াতের জোটের প্রার্থী এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়।
নির্বাচন কমিশনের আপিল করার পর মনিরা শারমিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপিল করেছি। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় শুনানির সময় দিয়েছে কমিশন। সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে আমি যে পর্যায়ে কাজ করেছি, সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো ক্ষমতা ছিল না। কাজেই আমি মনে করি না, এটা মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার মতো।’
বাছাইয়ে জামায়াত জোটের প্রার্থীদের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। মনিরা শারমিন বলেন, ‘আইন তো সবার জন্য সমান। ১১-দলীয় জোটের প্রার্থীর ক্ষেত্রে বিমাতাসুলভ আচরণ কি না। আমরা দেখছি, মাধবী মারমা বান্দরবান জেলা পরিষদের প্রশাসনিক পদে থেকেও নির্বাচন করতে পারছেন, তার মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করা হয়নি।’
অন্যদিকে, বিএনপির প্রার্থী মাধবী মারমার প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে আপিল করা চন্দ্রা চাকমা নির্বাচেন ভবনে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক। মাধবী মার্মা বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য পদ থেকে সরে না দাঁড়িয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন, যা আইনগতভাবে অবৈধ।’
তার দাবি, অন্যান্য জেলা পরিষদের আইন কিন্তু এক ধরনের, আর তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করতে হলে চেয়ারম্যানের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র যোগে যেকোনো সদস্য পদত্যাগ করতে পারবেন।
তিনি বলেন, ‘উনি কিন্তু পদত্যাগ করেননি। উনি ২১ তারিখে কিন্তু এখানে তার মনোনয়নপত্র সবকিছু দাখিল করেছেন। যার কারণে তিনি জেলা পরিষদের আইন যেমন লঙ্ঘন করেছেন, তেমনি নির্বাচন কমিশনের যে আইন আছে, সেটাও লঙ্ঘন করেছেন।’
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ২৭ এপ্রিল ও ২৮ এপ্রিল আপিল নিষ্পত্তি হবে। ২৯ এপ্রিল প্রার্থিতা প্রত্যাহার ও ৩০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ আর ভোট হবে ১২ মে।


