সংস্কার পরিষদ গঠন না করে দেশে যে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে, তার চরম পরিণতি বিএনপি সরকারকে ভোগ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘বিএনপি ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে গণভোটের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে। জাতিকে এই দুর্যোগে টেনে আনার দায় তাদেরই নিতে হবে।’
সোমবার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে এগারো দলীয় ঐক্য আয়োজিত ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দেশে দুটি মূল ধারা তৈরি হয়েছিল। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দাবি ছিল ফ্যাসিবাদের বিলোপ এবং সংস্কার, অন্যদিকে বিএনপি চেয়েছিল দ্রুত নির্বাচন।
তিনি বলেন, ‘আমরা প্রথমে গণপরিষদের দাবি জানিয়েছিলাম, কিন্তু বিএনপির অনুরোধে সংস্কারের স্বার্থে আমরা ‘সংস্কার পরিষদ’ গঠনের দাবি মেনে নিয়েছিলাম। বিএনপি তখন এতে সম্মত হলেও এখন তারা কথার বরখেলাপ করছে।’
বিএনপি জুলাই সনদ ও জুলাই আদেশকে আলাদা করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘তারা জুলাই সনদকে নিজেদের দলীয় ইশতেহারে পরিণত করতে চায়। বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে মৌলিক পরিবর্তন সম্ভব নয় বলেই ‘গাঠনিক ক্ষমতা’ সম্পন্ন সংস্কার পরিষদের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছিল। কিন্তু বিএনপি এখন গণভোটের গণরায়কে প্রত্যাখ্যান করছে, যার পরিণতি মোটেও সহজ হবে না।’
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে নাহিদ বলেন, ‘আজ আমাদের যুদ্ধ পরিস্থিতি, জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং ‘হামের’ মতো দুর্যোগ মোকাবিলা নিয়ে আলোচনা করার কথা ছিল। জ্বালানি সংকট সমাধানের পথ খোঁজার কথা ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, গত ১৬ বছরের মতো এখনো আমাদের সংস্কারের দাবি নিয়েই পড়ে থাকতে হচ্ছে। বিএনপি জাতিকে এই সংকটে নিমজ্জিত করেছে।
সংকট সমাধানে সরকারকে দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করার আহ্বান জানিয়ে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, জাতীয় ঐক্যকে টিকিয়ে রাখতে হলে দ্রুত সংস্কার পরিষদ বাস্তবায়ন করুন। অন্যথায় উদ্ভূত পরিস্থিতির দায়ভার এবং কঠিন পরিণতি আপনাদেরই ভোগ করতে হবে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ এগারো দলীয় জোটের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।


