আগামী জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি এককভাবে সরকার গঠনে আত্মবিশ্বাসী বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, ‘আমি আত্মবিশ্বাসী যে আগামী জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে এককভাবে সরকার গঠন করব।’ সোমবার যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান।
দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে পরিবারসহ লন্ডনে বসবাসরত তারেক রহমান নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য শিগগির দেশে ফিরে আসবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমার বাংলাদেশে ফেরার সময় খুব কাছেই।’
তারেক রহমান আরও বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত যে আমাদের দল জয়ী হবে এবং এককভাবে সরকার গঠনের অবস্থানে রয়েছি। বাংলাদেশে একটি অবাধ, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত শেখ হাসিনার শাসনের পতন ঘটানো ছাত্রদের নেতৃত্বাধীন আন্দোলন সম্পূর্ণ হবে না।’
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি সংকটকালীন সময়ে রয়েছে। দেশের তৈরি পোশাক খাত যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্কের মুখে পড়েছে এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনমনও তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।’
একাধিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, বিএনপি এগিয়ে আছে। বিএনপি জয়ী হলে, তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখা যেতে পারে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনায় নিষিদ্ধ করেছে।
তারেক রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটি ফ্যাসিস্ট দল। আমরা অন্যান্য দলকে নিয়ে সরকার গঠনে প্রস্তুত। আমরা তরুণদের রাজনীতিতে স্বাগত জানাই, যারা নতুন দৃষ্টিকোণ নিয়ে কাজ করতে চায়।’
তারেক রহমান আগামী সরকারের জন্য বিভিন্ন নতুন অর্থনৈতিক উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। আমাজন ও আলিবাবার মতো ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাংলাদেশকে ‘সরবরাহ কেন্দ্র’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি (তারেক)।
ভারত নিয়ে পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা সবকিছুর আগে বাংলাদেশকে অগ্রাধিকার দেব। শেখ হাসিনার সমর্থক ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এখন একপাক্ষিক হয়েছে। তাই আমাদের সরকার সেই সম্পর্ক পুনর্নির্মাণে কাজ করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শেখ হাসিনার অধীনে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেব। আমরা ঘুষ-দুর্নীতি মুক্ত একটি প্রশাসন গড়ে তুলব।’
বিএনপি ক্ষমতায় এলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা দূর করতে এবং দেশের অর্থনৈতিক দিক থেকে বৈচিত্র্য আনার জন্য কাজ করবে, যাতে দেশের যুব সমাজ ও নতুন প্রজন্মের জন্য একটি স্থিতিশীল ভবিষ্যৎ তৈরি হয়, যোগ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচিত হলে তিনি মুহাম্মদ ইউনূসের প্রশাসন শত শত কোটি ডলার উদ্ধারের যে চেষ্টা চালিয়ে আসছে, সেটা অব্যাহত রাখবেন।’ শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা এসব অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন বলে ইউনূসের প্রশাসনের অভিযোগ।
আওয়ামী লীগের জনমর্থন রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ নেতাদের বিচার চলার উল্লেখ করে সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন, ‘যদি তারা অপরাধী হিসেবে দোষী সাব্যস্ত হয়, তাহলে আওয়ামী লীগ কীভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে?’
বিএনপির গত সরকারের সময়, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশকে (টিআইবি) পাঁচ বছর ধরে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল।
ফিনান্সিয়াল টাইমসের তথ্যমতে, ২০০৮ সালে এক মার্কিন কূটনৈতিক তারেক রহমানকে ‘একটি লুটেরা সরকার ও সহিংস রাজনীতির প্রতীক’ হিসেবে বর্ণনা করেছিল। দাবি করা হয়েছিল যে তিনি ‘প্রতিনিয়ত ও স্পষ্টভাবে ঘুষ দাবি করতেন’।
বিএনপির শাসনকাল নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তারেক রহমান স্বীকার করেন যে ‘যেকোনো সরকারের কিছু ত্রুটি থাকে’ তবে তিনি তার সরকারের দুর্নীতিবিরোধী প্রচেষ্টার পক্ষে দাঁড়িয়ে বলেন, তাদের সরকার দেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রতিষ্ঠা করেছিল।
তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশি মিডিয়ার ছড়ানো মিথ্যা কথাগুলো‘ মার্কিন কূটনৈতিক যোগাযোগ ভিত্তি হিসেবে নিয়েছিল। আমার বিরুদ্ধে করা সেই মিথ্যা মামলা এখন বাতিল করা হয়েছে।’


