আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, যে সাক্ষ্য-প্রমাণ এখন পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে, তা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণে যথেষ্ট।
সোমবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চিফ প্রসিকিউটর এ তথ্য জানান।
তিনি আরও জানান, ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করতে আর দু-একজনের সাক্ষী নেওয়া হবে। এর পরেই সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত ঘোষণা করা হবে।
এদিন, ট্রাইব্যুনালে ‘দৈনিক আমার দেশ’ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন চিফ প্রসিকিউটর।
মহমুদুর রহমান বলেন, ‘শেখ হাসিনা সেনাবাহিনী ও বিচার বিভাগের প্রতি প্রচণ্ড বিদ্বেষী ছিলেন এবং তার বিদ্বেষের কারণে বিডিআর হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল। তিনি বিচার বিভাগ ধ্বংসের জন্য সবকিছু করেছিলেন। তার কথা শোনার পরেই বিচারকরা প্রধান বিচারপতি হয়েছেন। এ ছাড়া, শাহবাগে পরিকল্পিতভাবে মব কালচার তৈরি করে কয়েকজনকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে।’
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট ট্রাইব্যুনালে এদিন সাক্ষ্য দেন মাহমুদুর রহমান।
এদিকে, মঙ্গলবার সাক্ষ্য দেবেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
এর আগে, ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই মামলায় ১৪তম দিনের মতো ছয়জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত ৪৫ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাক্ষীদের জবানবন্দিতে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে দেশজুড়ে গণহত্যার বীভৎস বর্ণনা উঠে এসেছে। শহিদ পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীরা শেখ হাসিনা এবং আসাদুজ্জামান খান কামালসহ অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
এই মামলায় ৫টি অভিযোগে অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউশন ৮ হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছে। এর মধ্যে তথ্যসূত্র ২ হাজার ১৮ পৃষ্ঠা, জব্দ তালিকা ও দালিলিক প্রমাণাদি ৪ হাজার ৫৮ পৃষ্ঠা, এবং শহিদদের তালিকার বিবরণ ২ হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠা। সাক্ষী হিসেবে রয়েছেন ৮১ জন।


