কোনো আসনে অন্যায় ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণকে প্রশ্রয় দিলে তা সারা দেশে ছড়িয়ে পরতে পারে বলে শঙ্কা জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।
শনিবার বেলা ১১টার দিকে আশুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
একুশের প্রথম প্রহরে সরাইলে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে বাধা দেওয়ার ঘটনায় বিএনপির নেতাকর্মীদের হুঁশিয়ারি করে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘বিএনপি যদি সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে বিচ্ছিন্ন মনে করে এবং এসব কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেয়, তাহলে দলের জন্য তা শুভ হবে না।’
‘একটি আসনে যদি এই ধরনের অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া হয়, তাহলে গতকাল যেভাবে নেতাকর্মীরা উশৃঙ্খল আচরণ করেছে, তা অন্য আসনেও শুরু হবে। বিএনপি ২০৯টি আসন পেয়েছে এভাবে চলতে থাকলে পুরো বাংলাদেশে অরাজকতা তৈরি হতে পারে’, যোগ করেন এই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য।
আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে বিভিন্ন সময়ে বক্তব্য দেওয়ায় তাকে ‘ট্যাগিং’-এর শিকার হতে হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই ট্যাগে আমার কিছু যায় আসে না।’
২১ ফেব্রুয়ারি নিয়ে বক্তব্যে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমাদের দুর্ভাগ্য- আমরা সবকিছুতেই রাজনীতি করি। যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসে, তারা তাদের মতো করে ইতিহাস রচনা করে। ফলে ইতিহাসে আমরা হয় দেবতা, নয়তো ইবলিস এই দুইয়ের মাঝখানে সাধারণ মানুষকে খুঁজে পাই না।’
‘সরকার এসেছে, সরকার গেছে; কিন্তু ভাষা আন্দোলনের প্রকৃত ইতিহাস কোথাও সঠিকভাবে লেখা হয়নি। এটা জাতি হিসেবে দুঃখজনক ও লজ্জাজনক’ বলেও মনে করেন তিনি।
নিজেকে ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক অলি আহাদ-এর মেয়ে পরিচয় দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, পাঠ্যসূচির বইগুলোতে ভাষা আন্দোলনের প্রকৃত ইতিহাস প্রতিফলিত হয়নি।
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাফে মোহাম্মাদ ছড়া, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল আলম, উপজেলা জামায়াতের আমির মো. শাহজাহান ভুইয়া, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আশুগঞ্জ উপজেলার মুখ্য সমন্বয়ক আমিনুল ইসলাম ডালিম, সরকারি হাজি আব্দুল জলিল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হুমায়ুন কবির, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান ও মো: নাসির মুন্সি।


