ঢাবিতে শিবির সমর্থকের বিরুদ্ধে ছাত্রদল নেতাকে মারধরের অভিযোগ

ঢাবিতে শিবির সমর্থকের বিরুদ্ধে ছাত্রদল নেতাকে মারধরের অভিযোগ
অভিযুক্ত শীবির সমর্থক আবদুল্লাহ আল মাহফুজ। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলে শৌচাগার ব্যবহারকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের এক নেতাকে মারধর ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে ইসলামী ছাত্রশিবিরের এক সমর্থকের বিরুদ্ধে। তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে বিষয়টিকে কেবল ‘ধাক্কাধাক্কি ও বাগ্‌বিতণ্ডা’ বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষার্থী।

এ ঘটনায় পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ‘প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে’ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হল প্রশাসন। গত রোববার রাত ১২টার দিকে বিজয় একাত্তর হলের গেস্টরুম-সংলগ্ন ওয়াশরুমের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগকারী শিক্ষার্থীর নাম আহমেদ শাহরিয়ার। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ও হল শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।

অন্যদিকে অভিযুক্ত আবদুল্লাহ আল মাহফুজ বাংলা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। মাহফুজ শিবিরের সমর্থক হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত।

হল প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার বিচার চেয়ে আহমেদ শাহরিয়ার লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে তিনি বলেছেন, রাতে গেস্টরুমের পাশের ওয়াশরুম ব্যবহার করতে গেলে মাহফুজ তাকে বাধা দেন। অন্য ওয়াশরুমগুলো তালাবদ্ধ থাকায় তিনি ফিরে এলে মাহফুজ ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।

শাহরিয়ার টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমি ওনাকে যখন বুঝাচ্ছিলাম, উনি তখন আমাকে ধাক্কাতে ধাক্কাতে দেওয়ালের কাছে নিয়ে যান। একপর্যায়ে তিনি আমাকে মারধর করেন এবং “গেস্টরুমে নেওয়ার” হুমকি দেন।’

আরও পড়ুন

তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে আবদুল্লাহ আল মাহফুজ বলেন, ‘রোববার ফুটবল খেলা দেখতে আসা কয়েকজন নারী অতিথি গেটম্যানের অনুমতি নিয়ে ওই ওয়াশরুম ব্যবহার করছিলেন। নিরাপত্তার কারণে শাহরিয়ারকে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলা হলে তিনি জোর করে ভেতরে ঢুকতে চান। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়।’ উল্টো অভিযোগ করে মাহফুজ বলেন, ‘পরদিন ভোরে কয়েকজন তার কক্ষে গিয়ে তাকে মারধরের চেষ্টা করেন। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।’

ঘটনার সময় উপস্থিত এক নারী শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমরা কয়েকজন নারী অতিথি হলের গেটম্যানের অনুমতি নিয়ে ওয়াশরুমে গিয়েছিলাম। সে সময় এক শিক্ষার্থী জোর করে ভেতরে ঢুকতে চাইলে তাকে বাধা দেওয়া হয়। নারী শিক্ষার্থীদের বিষয় টেনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।’ প্রয়োজনে তিনি তদন্ত কমিটির কাছে সাক্ষ্য দেবেন বলেও জানান।

অন্যদিকে হলের অভ্যন্তরীণ ফেসবুক গ্রুপে রাশেদ নামের এক শিক্ষার্থী জানান, তিনি অভিযুক্ত মাহফুজকে উচ্চ স্বরে গালিগালাজ ও হুমকি দিতে শুনেছেন।

ক্যাম্পাসে মাহফুজকে ছাত্রশিবিরের সমর্থক হিসেবে প্রচার করা হলেও তিনি তা অস্বীকার করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মো. মিফতাহুল হোসাইন বলেন, ‘মাহফুজের সঙ্গে শিবিরের কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে তিনি শিবিরের প্যানেলকে সমর্থন করেছিলেন।’

বিজয় একাত্তর হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক স ম আলী রেজা বলেন, ‘দুই পক্ষের কাছ থেকেই আমরা ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পেয়েছি। ঘটনার তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী চার-পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।’

প্রাধ্যক্ষ আরও জানান, প্রাথমিক সিসিটিভি ফুটেজে শব্দ না থাকায় এবং ঘটনার কিছু অংশ ওয়াশরুমের ভেতরে হওয়ায় পুরো বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে সে অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad