জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের ধুম পড়েছে। গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়ায় ইতোমধ্যেই প্রার্থীর সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়ে গেছে। আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা এবং সংসদীয় বিতর্কে পারদর্শিতা—এই দুই গুণকে গুরুত্ব দিয়েই দল চূড়ান্ত প্রার্থী বাছাই করবে বলে জানানো হয়েছে।
শনিবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, শুক্রবার থেকেই মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা অনেক বেশি। দীর্ঘ ১৬-১৭ বছরের দুঃসহ পরিস্থিতি পেরিয়ে আমরা এই জায়গায় উপনীত হয়েছি। যারা দলের দুর্দিনে আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে পুলিশের নির্যাতন সহ্য করেছেন এবং যাদের পার্লামেন্টে যুক্তি দিয়ে কথা বলার দক্ষতা রয়েছে, তাদেরকেই দল মূল্যায়ন করবে।’
দলের সহদপ্তর সম্পাদক তারিকুল ইসলাম তেনজিং জানান, শনিবার দুপুর পর্যন্ত ছয় শতাধিক ফরম বিক্রি হয়েছে এবং প্রায় ৮০টির মতো জমা পড়েছে। ১২ এপ্রিল পর্যন্ত ফরম সংগ্রহ ও জমা দেওয়া যাবে।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে শিক্ষক, আইনজীবী, শিল্পী এবং ছাত্রদলের সাবেক নেত্রীদের উপস্থিতি লক্ষণীয়।
মনোনয়ন ফরমের মূল্য ধরা হয়েছে ২ হাজার টাকা এবং জমা দেওয়ার সময় প্রত্যেক প্রার্থীকে ৫০ হাজার টাকা জামানত দিতে হবে। কেন্দ্রীয় বাছাই বোর্ড আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করে দ্রুতই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ মে সংরক্ষিত নারী আসনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়ন দাখিলের শেষ সময় ২১ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র বাছাই ২২ ও ২৩ এপ্রিল। প্রতীক বরাদ্দ ৩০ এপ্রিল।
ইসি’র হিসাব অনুযায়ী, সংরক্ষিত ৫০টি আসনের মধ্যে বিএনপি জোট ৩৬টি, জামায়াতে ইসলামী জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১টি আসন লাভ করবেন।


